নিউজ ডেস্ক,বিডিমিরর সেভেনটিওয়ান ডটকমঃ
‘স্বাধীন বাংলা মাদকবিরোধী কল্যাণ সোসাইটি’ নামধারী একটি সংগঠনকে ঘিরে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। সংস্থাটির দাবি, সংগঠনটির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের নাম ও ছবি ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা, অপপ্রচার, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং চাঁদাবাজির মতো কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে।
বুধবার (২০ মে) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে অধিদপ্তর জানায়, ‘স্বাধীন বাংলা মাদকবিরোধী কল্যাণ সোসাইটি’ নামের সংগঠনটি অধিদপ্তর কর্তৃক অনুমোদিত বা নিবন্ধিত নয়। এমনকি সংগঠনটির সঙ্গে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্কও নেই। অথচ তাদের বিভিন্ন ব্যানার, মানববন্ধন ও প্রচারণায় অধিদপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নাম ও ছবি অনুমতি ছাড়াই ব্যবহার করা হয়েছে, যা আইনগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ।
বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্যে প্রতীয়মান হয়েছে, সংগঠনটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নাম ও ছবি ব্যবহার করে মানববন্ধন ও অপপ্রচারমূলক কর্মসূচি পরিচালনা করে পরে সেই নাম বা ছবি সরানোর জন্য অর্থ আদায়ের চেষ্টা চালায়।
অধিদপ্তরের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি মূলত ব্ল্যাকমেইল ও চাঁদাবাজির কৌশল।
এতে উল্লেখ করা হয়, কথিত সংগঠনটির নেপথ্যের ব্যক্তি সেলিম নিজামীর বিরুদ্ধে অতীতে প্রতারণা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও চাঁদাবাজির একাধিক অভিযোগ রয়েছে। ২০২৪ সালের ২১ মার্চ প্রকাশিত একটি সংবাদ প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, জমিসংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির কথা বলে এক ভুক্তভোগীর কাছ থেকে প্রায় পৌনে ৪ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এ ছাড়া ২০১৯ সালের ৩০ জুন ফতুল্লা এলাকায় কথিত সাংবাদিক পরিচয়ে মাসিক চাঁদা দাবি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলার তথ্যও বিজ্ঞপ্তিতে তুলে ধরা হয়।
অধিদপ্তরের দাবি, সে ঘটনায় সেলিম নিজামীও আটক ব্যক্তিদের তালিকায় ছিলেন।
অধিদপ্তর আরো জানায়, সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে লাইসেন্স বা অনুমোদন পাওয়ার চেষ্টা করলেও প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় তাদের আবেদন গ্রহণ করা হয়নি। পাশাপাশি মাদকবিরোধী প্রচারণার নামে বিভিন্ন সময় আর্থিক সহায়তা চেয়েও ব্যর্থ হয় তারা। এরপর থেকেই সংশ্লিষ্টরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অধিদপ্তরের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে সাধারণ মানুষ, গণমাধ্যমকর্মী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে এ ধরনের প্রতারক চক্র সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
একইসঙ্গে বলা হয়েছে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের নাম, লোগো কিংবা কর্মকর্তাদের পরিচয় ব্যবহার করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি, চাঁদাবাজি বা অপপ্রচারের যেকোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।







