সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ৫:৩০ পূর্বাহ্ণ
■ ৩রা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের পরাজয় নিশ্চিত

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Print
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক,বিডিমিরর সেভেনটিওয়ান ডটকমঃ

ইরানে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তাদের লক্ষ্য অর্জনে চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ হয়েছে বলে বিশ্বের প্রধান ৮০টি থিংকট্যাংক বা গবেষণা প্রতিষ্ঠানের তথ্য বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সির ‘সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ’ গত এক মাসে প্রকাশিত এসব প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে এ কথা জানিয়েছে।

এই গবেষণার মূল স্তম্ভ হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে পাঁচটি বিষয়কে। বিশ্লেষকদের মতে, ‘রমজান যুদ্ধ’ (ইরানের আত্মরক্ষা) পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ দিক উন্মোচন করেছে। এগুলো হলো—

প্রযুক্তিগত বনাম কৌশলগত জয়—সামরিক প্রযুক্তিতে এগিয়ে থাকায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ‘ট্যাকটিক্যাল’ বা কৌশলগত কিছু আঘাত হানতে পারলেও ‘স্ট্র্যাটেজিক’ বা রণকৌশলগত দিক থেকে তারা ব্যর্থ।

ইরানের প্রতিরোধ—রাজনৈতিক ব্যবস্থা উপড়ে ফেলা, ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ধ্বংস করা বা দেশটিকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করার যে লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ছিল, তা অর্জনে বাধা দিতে সক্ষম হয়েছে তেহরান।

হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ—ইরান বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে ‘অপ্রতিসম যুদ্ধ’ চালিয়ে যুদ্ধের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রেখেছে। বিশেষ করে, হরমুজ প্রণালি দখল এবং সেটি পুনরায় সচল করতে যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রদের ব্যর্থতা ইরানের হাতকে শক্তিশালী করেছে।

ক্ষয়িষ্ণু যুদ্ধ—বর্তমানে যুদ্ধটি একটি ‘ক্ষয়িষ্ণু যুদ্ধে’ পরিণত হয়েছে, যেখানে সময় যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের চেয়ে ইরানের পক্ষেই বেশি কাজ করছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্থানের পথ—যুদ্ধ থেকে দ্রুত বেরিয়ে আসতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে হয় একটি ‘প্রচারণামূলক বিজয়’ দেখাতে হবে, নতুবা কোনো জয় ছাড়াই যুদ্ধ শেষ করতে হবে।

হরমুজ প্রণালি খুলতে যুদ্ধে নামতে প্রস্তুত আরব আমিরাতহরমুজ প্রণালি খুলতে যুদ্ধে নামতে প্রস্তুত আরব আমিরাত
জরিপ করা থিংকট্যাংকের ভৌগোলিক বিন্যাস

তাসনিম নিউজের গবেষণায় মোট ৮০টি থিংকট্যাংককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ২২টি—ব্রুকিংস, কার্নেগি, সিএফআর, র‍্যান্ড, সিএসআইএস, হেরিটেজ ফাউন্ডেশন, আটলান্টিক কাউন্সিল ইত্যাদি।

যুক্তরাজ্যের আটটি—চ্যাথাম হাউস, আইআইএসএস, রুসি, পলিসি এক্সচেঞ্জ ইত্যাদি। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও অন্যান্য ১৮টি—ব্রুগেল, ইফরি, সিইপিএস, এসআইপিআরআই, জার্মান মার্শাল ফান্ড ইত্যাদি। এশিয়ার ৯টি—চীনের সিআইসিআইআর, ভারতের ওআরএফ, জাপানের জেআইআইএ, দক্ষিণ কোরিয়ার কেডিআই ইত্যাদি। এ ছাড়া ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম, ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপসহ ১৪টি আন্তর্জাতিক সংস্থা রয়েছে।

এ ছাড়া কানাডা (২), অস্ট্রেলিয়া (৩), ল্যাটিন আমেরিকা (১) ও আফ্রিকার (৩) শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলো এই তালিকায় রয়েছে।

গবেষণায় ব্রুকিংস, কার্নেগি, চ্যাথাম হাউস, সিএসআইএস, র‍্যান্ড, এসআইপিআরআই, ইউরেশিয়া গ্রুপ ও হাডসন ইনস্টিটিউটের মতো প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এই প্রতিষ্ঠানগুলোর বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ইরান অত্যন্ত সুকৌশলে যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। সামরিক শক্তি প্রয়োগের পরও কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনই যুদ্ধে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং সেই জায়গায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে আটকে দিতে পেরেছে ইরান।

খবরটি শেয়ার করতে নিচের বোতামগুলিতে ক্লিক করুন।

আরও খবর

বিভাগীয় সংবাদ