সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ২:২২ পূর্বাহ্ণ
■ ৩রা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের খরচ ২ হাজার ৯০০ কোটি ডলার

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Print

নিউজ ডেস্ক,বিডিমিরর সেভেনটিওয়ান ডটকমঃ

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যয় এখন প্রায় ২৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন ঘাঁটি ও স্থাপনা মেরামতের সম্ভাব্য খরচ বাদ দিয়েই এ খরচ ধরা হয়েছে। স্থানীয় সময় গত মঙ্গলবার মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের কম্পট্রোলার জে হার্স্ট এ তথ্য জানান।

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, দুই সপ্তাহ আগে পেন্টাগনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কংগ্রেসকে ব্যয়ের যে পরিসংখ্যান দিয়েছিলেন, এটা তার চেয়ে অন্তত ৪০০ কোটি ডলার বেশি। মার্কিন এক যুদ্ধ বাজেট বিশেষজ্ঞ বলছেন, এ সংঘাতের ফলে শেষ পর্যন্ত মার্কিন করদাতাদের পকেট থেকে অন্তত এক লাখ কোটি ডলার খসতে যাচ্ছে।
পেন্টাগনের কম্পট্রোলার জে হার্স্ট মঙ্গলবার হাউস অ্যাপ্রোপ্রিয়েশনস কমিটির শুনানিতে বলেন, হাউস আর্মড সার্ভিসেস কমিটিতে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় ইরান যুদ্ধে খরচের অঙ্কটি ছিল দুই হাজার ৫০০ কোটি ডলার। কিন্তু জয়েন্ট স্টাফ টিম ও কম্পট্রোলার টিম ক্রমাগত ওই হিসাবটি পর্যালোচনা করছেন। তিনি বলেন, ‘এখন আমরা মনে করছি– সংখ্যাটি দুই হাজার ৯০০ কোটি ডলারের কাছাকাছি। এর কারণ হলো সরঞ্জাম মেরামত ও প্রতিস্থাপনের হালনাগাদ খরচ ও যুদ্ধক্ষেত্রে কর্মীদের রাখার সাধারণ পরিচালন ব্যয়।’

পরে সিনেট অ্যাপ্রোপ্রিয়েশনস সাবকমিটির শুনানিতে হার্স্ট বলেন, এ দুই হাজার ৯০০ বিলিয়ন ডলারের হিসাবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ক্ষয়ক্ষতির খরচ অন্তর্ভুক্ত নয়। তিনি বলেন, ‘এ মুহূর্তে আমাদের কাছে কোনো সঠিক হিসাব নেই।’

সিএনএন আগে যে ক্ষয়ক্ষতির হিসাব দিয়েছিল, তাতেও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি মেরামতের আনুমানিক খরচ অন্তর্ভুক্ত ছিল না।

একটি সূত্র সিএনএনকে জানিয়েছে, ওই মেরামতের খরচ ও ক্ষতিগ্রস্ত সম্পদ প্রতিস্থাপনের হিসাব ধরলে মোট খরচ গিয়ে দাঁড়াতে পারে ৪০ থেকে ৫০ বিলিয়ন ডলারে। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের খরচের আরও আনুষ্ঠানিক হিসাব কংগ্রেসকে দিতে পারবেন কিনা জানতে চাইলে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেন, পেন্টাগন ‘প্রাসঙ্গিক ও প্রয়োজনীয় মনে করলে যতটুকু সম্ভব শেয়ার করব।’

গতকাল মার্কিন গণমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের সঙ্গে সংঘাতের কারণে প্রধান জ্বালানি অবকাঠামোতে সৃষ্ট বিঘ্ন মার্কিনিদের জন্য গ্যাসের দাম আরও বাড়ার শঙ্কা তৈরি করছে। স্থানীয় সময় গত মঙ্গলবার মার্কিন জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা গ্যাসের দাম বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছেন। তারা সতর্ক করে বলেছেন, আগামী সপ্তাহগুলোতে তেলের ফিউচার মূল্য সম্ভবত ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারের ওপরে থাকবে।

যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি সংশ্লিষ্ট তথ্য দানকারী প্রতিষ্ঠান ইআইএর নতুন পূর্বাভাস অনুযায়ী, এ বছর খুচরা গ্যাসের দাম গ্যালন প্রতি গড়ে ৩ দশমিক ৮৮ ডলার এবং আগামী বছর ৩ দশমিক ৬২ ডলার বাড়তে পারে। ইরানের হামলায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় সংযুক্ত আরব আমিরাতে বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম স্থলভাগের গ্যাস প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রটি ২০২৭ সালের আগে পূর্ণ কার্যক্ষমতায় ফিরতে পারবে না বলে এর পরিচালক জানিয়েছেন।

ইরানের খার্গ দ্বীপের উপকূলের পানিতে একটি বড় অংশজুড়ে তেল ছড়িয়ে পড়ছে। স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা যাচ্ছে, গত সপ্তাহে শনাক্ত হওয়া এ তেল নিঃসরণটি দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত হচ্ছে। পরে এটি সাগরের পানির সঙ্গে মিশে যাচ্ছে। ইরানের সঙ্গে ৪০ দিনের যুদ্ধ চলাকালেও বিভিন্ন তেলক্ষেত্র ও শোধনাগার হামলার শিকার হয়েছে। বন্ধ রয়েছে হরমুজ। এ জলপথটি দিয়ে বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল যাতায়াত করে।

সৌদি প্রতিরক্ষা জোটে যোগ দিতে পারে তুরস্ক ও কাতার
চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে নিরাপত্তা বিন্যাসকে নতুন রূপ দেওয়ায় পাকিস্তান ইঙ্গিত দিয়েছে যে, সৌদি আরবের সঙ্গে তার পারস্পরিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তিতে যোগ দিতে পারে তুরস্ক ও কাতার। গতকাল বুধবার ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, বিষয়টি এখন চূড়ান্ত করার পর্যায়ে আছে। এটি অবশেষে একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোতে প্রসারিত হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের কারণে সৃষ্ট তীব্র আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে এ ঘটনা ঘটেছে। এ সংকটে পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে, যা ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যোগাযোগ সহজতর করার পাশাপাশি প্রকাশ্যে সংলাপ ও উত্তেজনা হ্রাসের আহ্বান জানাচ্ছে।

ব্লুমবার্গের তথ্যমতে, গত সোমবার রাতে একটি স্থানীয় টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে খাজা আসিফ বলেন, ‘যদি কাতার ও তুরস্ক এ বিদ্যমান চুক্তিতে যোগ দেয়, তবে এটি একটি স্বাগতযোগ্য পদক্ষেপ হবে।’ পাকিস্তানের মন্ত্রী বলেন, এ উদ্যোগের লক্ষ্য হলো আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও সম্মিলিত নিরাপত্তা শক্তিশালী করার জন্য সমমনা দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতার একটি বৃহত্তর মঞ্চ তৈরি করা।

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে সৌদি আরব ও পাকিস্তান একটি কৌশলগত প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করে, যার অধীনে ‘যে কোনো একটি দেশের বিরুদ্ধে যে কোনো আগ্রাসন উভয় দেশের বিরুদ্ধে আগ্রাসন হিসেবে গণ্য হবে।’

ইরানে সৌদি আরবের কথিত গোপন হামলার খবর
গতকাল বুধবার টাইমস অব ইসরায়েলের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, যুদ্ধ চলাকালে সৌদি আরবে চালানো হামলার প্রতিশোধ হিসেবে দেশটি ইরানের ওপর অসংখ্য অপ্রকাশিত হামলা চালিয়েছে। প্রতিবেদনে দুজন পশ্চিমা কর্মকর্তা ও দুজন ইরানের কর্মকর্তার বরাত দেওয়া হলেও তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল হামলা চালিয়ে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যা করে। একই দিনে তারা দেশটির মিনাব শহরে একটি মাধ্যমিক স্কুলে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে দেড় শতাধিক শিশু হত্যা করে। এরপরই ইরান ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের নানা দেশে মার্কিন ঘাঁটি ও স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু বানায়। এ সময় সৌদিতে হামলা হলেও দেশটি কোনো পাল্টা হামলায় অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান সবচেয়ে বেশি হামলা চালিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতে। দেশটিকে ইসরায়েল-ঘনিষ্ঠ বলে মনে করে তেহরান।

খবরটি শেয়ার করতে নিচের বোতামগুলিতে ক্লিক করুন।

আরও খবর

বিভাগীয় সংবাদ