সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ৪:৩৯ পূর্বাহ্ণ
■ ৩রা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এআই ক্যামেরায় ট্রাফিক আইন ভাঙলে কোন অপরাধে কত জরিমানা

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Print

নিউজ ডেস্ক,বিডিমিরর সেভেনটিওয়ান ডটকমঃ

রাজধানীর সড়কে ট্রাফিক আইন ভাঙলে এখন আর চোখ এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকছে না। ট্রাফিক পুলিশ না থাকলেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ক্যামেরায় ধরা পড়ছে বিভিন্ন অপরাধ।

এআই ক্যামেরায় শনাক্ত হওয়া অপরাধের ধরন অনুযায়ী সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা গুনতে হতে পারে। একই অপরাধ বারবার করলে জরিমানার পরিমাণ প্রথমবারের তুলনায় দ্বিগুণ হতে পারে। ইচ্ছাকৃতভাবে বারবার আইন ভাঙলে প্রচলিত আইনে কারাদণ্ডের বিধানও রয়েছে।
ইতোমধ্যে এআই ক্যামেরার মাধ্যমে করা মামলায় ২৯ লাখ টাকার বেশি জরিমানা আদায় হয়েছে।

নতুন প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার সঙ্গে চালকদের অভ্যস্ত হওয়ার সুযোগ দিতে শুরুতে কিছুটা নমনীয় অবস্থান নিয়েছে ট্রাফিক বিভাগ।
কোন অপরাধে কত জরিমানা
ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকা বা মেয়াদোত্তীর্ণ লাইসেন্সের ক্ষেত্রে বড় যানবাহনের জন্য জরিমানা ৫ হাজার টাকা এবং ছোট যানবাহনের জন্য ৪ হাজার টাকা। ফিটনেস না থাকা বা মেয়াদোত্তীর্ণ ফিটনেসের ক্ষেত্রে বড় যানবাহনে ১০ হাজার এবং ছোট যানবাহনে ৩ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হবে।

অনুমতি ছাড়া গাড়ির রং পরিবর্তন করলে বড় যানবাহনে ১০ হাজার এবং ছোট যানবাহনে ৩ হাজার টাকা জরিমানা।

রেজিস্ট্রেশন বা নম্বর প্লেট না থাকলে জরিমানা ১০ হাজার টাকা।
বেপরোয়া গাড়ি চালানো, লেন বন্ধ করে গাড়ি চালানো বা দাঁড় করানো, ভাঙা কাচ ব্যবহার কিংবা ইন্ডিকেটর লাইট না থাকা এবং চলাচলের অনুপযোগী যানবাহন চালানোর ক্ষেত্রে জরিমানা ২ হাজার ৫০০ টাকা।

উল্টো পথে গাড়ি চালালে বড় যানবাহনে ৩ হাজার এবং ছোট যানবাহনে ১ হাজার টাকা জরিমানা। ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য, সিটবেল্ট না বাঁধা এবং গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার করলে বড় যানবাহনে ৩ হাজার ও ছোট যানবাহনে ১ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হবে। মোটরসাইকেলে দুজনের বেশি যাত্রী বহন এবং হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল চালানোর ক্ষেত্রে জরিমানা ১ হাজার টাকা।

যেভাবে কাজ করবে এআই ক্যামেরা
কোনো গাড়ি ট্রাফিক আইন ভাঙলে এআই ক্যামেরায় ঘটনার ছবি ও প্রয়োজনীয় তথ্য রেকর্ড হবে। পরে সেই তথ্য সংশ্লিষ্ট ডাটাবেজে পাঠানো হবে। গাড়ির নিবন্ধিত মালিকের মোবাইল নম্বরে অপরাধ ও জরিমানার তথ্য জানিয়ে এসএমএস পাঠানোর ব্যবস্থা রয়েছে। নির্ধারিত মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে ঘরে বসেই জরিমানা পরিশোধ করা যাবে।

প্রাথমিক পর্যায়ে কয়েকটি অপরাধের ওপর বেশি নজরদারি করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য, উল্টো পথে গাড়ি চালানো, লেন ব্যবহারে অনিয়ম এবং যত্রতত্র গাড়ি থামানো বা পার্ক করা। পর্যায়ক্রমে সড়কের অন্যান্য আইন ভঙ্গের ঘটনাও এআই ক্যামেরার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

নম্বর প্লেটেও নজর
অস্পষ্ট বা পাঠযোগ্য নয় এমন নম্বর প্লেট এআইভিত্তিক নজরদারি ব্যবস্থায় সমস্যা তৈরি করতে পারে। একইভাবে নিবন্ধনহীন ব্যাটারিচালিত রিকশার বিষয়টিও জটিলতা তৈরি করছে। এসব সমস্যা সমাধানে স্পষ্ট ও পাঠযোগ্য নম্বর প্লেট নিশ্চিত করতে বিশেষ অভিযান চালানোর কথা জানিয়েছে ট্রাফিক বিভাগ। এ ছাড়া ২০ থেকে ২৫ বছর পুরোনো বাস ও ট্রাক পর্যায়ক্রমে সড়ক থেকে সরিয়ে নিতে নীতিমালা তৈরির কাজ চলছে।

মানতে হবে যেসব নিয়ম
এআই ক্যামেরার নজরদারি এড়ানোর চেষ্টা না করে নিরাপদ সড়কের জন্য ট্রাফিক আইন মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ। নির্ধারিত গতিসীমা মেনে চলা, ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য না করা, উল্টো পথে গাড়ি না চালানো, ঝুঁকিপূর্ণভাবে লেন পরিবর্তন না করা এবং নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে ওভারটেক করতে হবে।

এ ছাড়া গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার না করা, মোটরসাইকেল চালানোর সময় হেলমেট ও গাড়িতে সিটবেল্ট ব্যবহার করা, অবৈধ জায়গায় গাড়ি পার্ক বা থামিয়ে না রাখা এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স, রেজিস্ট্রেশন ও ফিটনেস হালনাগাদ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ভুয়া এসএমএস নিয়ে সতর্কতা
এআই ক্যামেরার মাধ্যমে জরিমানার ব্যবস্থা চালুর সুযোগ নিয়ে ভুয়া এসএমএস বা লিংকের মাধ্যমে প্রতারণার আশঙ্কাও রয়েছে। তাই অপরিচিত কোনো লিংকে ক্লিক করে ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের পিন বা ওটিপি না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। জরিমানার কোনো বার্তা পেলে তা নির্ভরযোগ্য সরকারি মাধ্যম থেকে যাচাই করে নিতে হবে।

খবরটি শেয়ার করতে নিচের বোতামগুলিতে ক্লিক করুন।

আরও খবর

বিভাগীয় সংবাদ