সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ৪:৩৫ পূর্বাহ্ণ
■ ৩রা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এক শতাংশ চার্জে প্রশ্নের মুখে বাংলা কিউআর

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Print

নিউজ ডেস্ক,বিডিমিরর সেভেনটিওয়ান ডটকমঃ

ক্যাশলেস বা নগদহীন লেনদেন বাড়াতে নানা প্রচারণা চালাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংকসহ আর্থিক লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ ব্যবস্থায় যুক্ত করতে নেওয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ। অথচ অ্যাপভিত্তিক লেনদেন নিষ্পত্তির অভিন্ন প্ল্যাটফর্ম ‘বাংলা কিউআর’ পরিশোধে মার্চেন্ট থেকে ১ শতাংশ বাড়তি চার্জ কাটা হচ্ছে। বাড়তি খরচ আরোপ করায় ক্যাশলেস লেনদেন জনপ্রিয় করার এ প্রক্রিয়া প্রশ্নের মুখে পড়েছে। গত ১ জুলাই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ সম্পর্কিত নির্দেশনার পর সামাজিক মাধ্যম, ব্যাংকার, এমনকি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভেতরেও বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। নতুন এই চার্জ আরোপের কারণে বাংলা কিউআরে পরিশোধ নিরুৎসাহিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে।

বাংলাদেশ ব্যাংক গত ১ জুলাই থেকে সব ব্যাংক, এমএফএস ও মোবাইল ওয়ালেটের কোডভিত্তিক সব লেনদেন বাংলা কিউআরে করা বাধ্যতামূলক করেছে। ক্যাশলেস লেনদেনকে উৎসাহিত করতে একটি দোকানে একাধিক কিউআর রাখার ঝামেলা এড়াতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। এর আগে সরকারের পক্ষ থেকে ট্রেড লাইসেন্স নেওয়ার অন্যতম একটি শর্ত দেওয়া হয়েছে তার কিউআরে পরিশোধ নেওয়ার ব্যবস্থা থাকতে হবে। অথচ বাংলা কিউআর ব্যবহার করে লেনদেনের ক্ষেত্রে অ্যাকোয়ারিং ব্যাংক, এমএফএসকে মার্চেন্ট থেকে সর্বনিম্ন ১ শতাংশ চার্জ কাটা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যা মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট বা এমডিআর নামে পরিচিত। অবশ্য এ অর্থ গ্রাহকের কাছ থেকে কাটা যাবে না। আর কোনো প্রতিষ্ঠান চাইলে ডিজিটাল লেনদেন উন্নয়নের স্বার্থে প্রমোশনাল ক্যাম্পেইন তথা ক্যাশব্যাকসহ নানা অফার দিতে পারবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলোর কথা বিবেচনায় করে ন্যূনতম ১ শতাংশ সার্ভিস চার্জ আরোপ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কেননা এসব প্রতিষ্ঠানের আয়ের মূল উৎস ক্যাশ আউট। ব্যাংকগুলোর কাছে টাকা জমা হলেই তারা ঋণ দিয়ে আয় করতে পারে। এরকম আমানতকে ব্যাংকগুলো ‘নো কস্ট ডিপোজিট’ বলে থাকে। ফলে ব্যাংক খরচ না নিয়ে উল্টো বিভিন্ন অফার দিলেও তার লাভ। তবে এমএফএস ঝামেলার কথা বিবেচনা করে ন্যূনতম ১ শতাংশ চার্জ আরোপ করতে বলা হয়েছে।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান সমকালকে বলেন, সব প্রতিষ্ঠানের বিষয় মাথায় রেখে ন্যূনতম এক শতাংশ চার্জের সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে। কোনো প্রতিষ্ঠান চাইলে ক্যাশব্যাকসহ নানা প্রমোশন চালাতে পারবে। ফলে এই চার্জ কোনো বাধা হওয়ার কথা না।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সারাদেশে ১৭ লাখের মতো সক্রিয় মার্চেন্ট পয়েন্টে বাংলা কিউআর বার কোড দেওয়া আছে। এর মধ্যে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠান দিয়েছে ১৫ লাখ ৬৩ হাজার; যেখানে এককভাবে সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ মার্চেন্ট পয়েন্টে কিউআর রয়েছে এমএফএস সেবা দাতা প্রতিষ্ঠান বিকাশের। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২ লাখ ১০ হাজার মার্চেন্ট পয়েন্টে কিউআর দিয়েছে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক এবং তৃতীয় সর্বোচ্চ পূবালী ব্যাংক দিয়েছে ২ লাখ ৬ হাজার। এ ছাড়া টালিপের প্রায় ২ লাখ, সেবা ফিনটেকের ১ লাখ ১৯ হাজার, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক ১ লাখ ৯ হাজার, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের ৮৫ হাজার, সোনালী ব্যাংকের ৫৪ হাজার, পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটর ডিজি ই-পে সার্ভিসের ৪৫ হাজার এবং সিটি ব্যাংকের ৩৭ হাজার মার্চেন্ট রয়েছে।

খবরটি শেয়ার করতে নিচের বোতামগুলিতে ক্লিক করুন।

আরও খবর

বিভাগীয় সংবাদ