রাজনীতি ডেস্ক , বিডি মিরর সেভেনটি ওয়ান ডটকম
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে দুই দশক পর সরকার গঠনের সুযোগ পেলে বিএনপি দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য কী কী করবে, সেই ফর্দ জাতির সামনে তুলে ধরছেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
‘কল্যাণমুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রতিশ্রুতিতে ৯টি বিষয়ে অগ্রাধিকার দিয়ে ৫১ দফার এ নির্বাচনি ইশতেহার সাজানো হয়েছে।
শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৩টায় ঢাকার হোটেল সোনারগাঁওয়ের বলরুমে কোরাআন তেলাওয়াত ও জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণার অনুষ্ঠান শুরু হয়।
দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করছেন কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব রুহুল কবির রিজভী।
বিএনপি বলছে, “এই ইশতেহার কেবল নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি নয়, এটি একটি নতুন সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় চুক্তির ঘোষণা।”
ইশতেহারে বলা হয়েছে, “ বিএনপি প্রতিশোধ নয়, ন্যায় ও মানবিকতার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। ক্ষমতা নয়, জনগণের অধিকারই আমাদের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু। লুটপাট নয়, উৎপাদন, ভালো নয়,অধিকার বৈষম্য নয়, ন্যায্যতা–এই নীতিতে রাষ্ট্র পরিচালিত হবে।
“জনগণের রায়ে দায়িত্ব পেলে বিএনপি এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলবে, সেখানে ভোটের মর্যাদা থাকবে, সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও বৈষ্যমের অবসান হবে, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ থাকবে না এবং প্রতিটি নাগরিক গর্ব করে বলতে পারবে–সবার আগে বাংলাদেশ।”

যে নয়টি বিষয়কে ইশতেহারে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে-
>> প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারের সুরক্ষায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’, কৃষকদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে ‘কৃষক কার্ড’
>> এক লাখ স্বাস্থ্য কর্মী নিয়োগ
>> আনন্দময় ও কর্মমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় বাস্তব দক্ষতা ও মূল্যবোধ ভিত্তিক শিক্ষা নীতি প্রণয়ন
>> তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি
>> ক্রীড়া পেশাকে পেশা ও জীবিকার মাধ্যম হিসেবে গড়ে তুলতে জেলা-উপজেলায় ক্রীড়া অবকাঠামো ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ
>> পরিবেশ সুরক্ষা ও জলবায়ু সহনশীলতা জোরদারে জনগণের অংশগ্রহণে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী, খাল খনন ও পুনর্খনন
>> পাঁচ বছরে ২৫কোটি বৃক্ষরোপণ, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালু
>> সব ধর্মের উপাসনালয়ে ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের জন্য সন্মানী ও প্রশিক্ষণভিত্তিক কল্যাণ ব্যবস্থা চালু
>> ডিজিটাল অর্থনীতি ও বৈশ্বিক সংযোগ বাড়াতে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সিস্টেম চালু
ক্ষমতায় গেলে বিএনপি কীভাবে দেশ পরিচালনা করবে, সেই পরিকল্পনা ইশতেহারের ৫১ দফায় তুলে ধরেছে বিএনপি।
ইশতেহার ঘোষণার আগে ও পরে আগামীর বাংলাদেশ পরিচালনায় দলটির অঙ্গীকার তুলে ধরে একটি ভিডিও উপস্থাপনা দেওয়া হয় অনুষ্ঠানে। বিএনপির লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও অঙ্গীকারসহ বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরা হয় সেখানে।
শফিক রেহমান, মতিউর রহমান, মতিউর রহমান চৌধুরীসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিবিদ এবং বিভিন্ন শ্রেণি পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত রয়েছেন অনুষ্ঠানে।
শরিক দলের নেতাদের মধ্যে আছেন বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণফোরামের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, জাগপার সভাপতি খন্দকার লুৎফুর রহমান, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান আবদুর রব ইউসুফীসহ সিনিয়র নেতারা ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে উপস্থিত আছেন।
বিএনপি নেতাদের মধ্যে স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী,সেলিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান শাসমুজ্জামান দুদু,আসাদুজ্জামান রিপন, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ইসমাইল জবিহউল্লা্হ,অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল ফজলে এলাহী আকবর, গোলাম আকবর খন্দকার, মাসুদ আহমেদ তালুকদার, অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া, নজমুল হক নান্নু, নাজিম উদ্দিন আলম, সুজা উদ্দিন, এস এম ফজলুল হক, বিজন কান্তি সরকার, আমিনুর রশিদ ইয়াছিন আছেন।
এছাড়া অধ্যাপক মাহবুবউল্লাহ, অধ্যাপক আনম ইউসুফ হায়দার, অধ্যাপক কামরুল আহসান, অধ্যাপক এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, অধ্যাপক নজরুল ইসলামসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-গবেষকরাও উপস্থিত হয়েছেন।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এবার বিএনপির নেতৃত্ব দিচ্ছেন তারেক রহমান। সেই হিসেবে এটিই তার প্রথম নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা।
পঞ্চম, ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম, নবম সংসদ নির্বাচনে দলের নেতৃত্ব দেন তৎকালীন চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। সে সময় তিনিই প্রতিটি নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেন।
২০১৮ সালের একাদশ নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট অংশ নিলেও সেই সময়ে বিএনপি চেয়ারপারসন কারাবন্দি ছিলেন। ওই বছরের ১৮ ডিসেম্বর গুলশানের লেকশোর হোটেলে একাদশ সংসদ নির্বাচনে ইশতেহার ঘোষণা করেছিলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শেখ হাসিনার অধীনে দশম ও দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন বয়কট করেছিল বিএনপি।







