সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ৩:৫৫ পূর্বাহ্ণ
■ ৩রা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কূটনীতির মাঠে তৎপর পাকিস্তান, ভারত কি কোণঠাসা হয়ে পড়ল

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Print
সংগৃহীত ছবি

নিউজ ডেস্ক,বিডিমিরর সেভেনটিওয়ান ডটকমঃ

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তান নিজেকে যখন তুলে ধরেছে, তখন ভারতকে কি কোণঠাসা করা হচ্ছে– দিল্লিতে এ গুঞ্জন এখন বেশ স্পষ্ট।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে আগ্রাসন শুরুর পর ইসলামাবাদ কূটনৈতিকভাবে দারুণ তৎপরতা দেখিয়েছে। এ সময় নিজেকে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে পাকিস্তান।

বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, গত সপ্তাহে ইসলামাবাদ যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে ১৫ পয়েন্টের একটি শান্তি পরিকল্পনা প্রস্তাব ইরানের কাছে পৌঁছে দিয়েছে এবং আলোচনার আয়োজক দেশ হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের ওই শান্তি পরিকল্পনা প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।

এ নিয়ে ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস সরকারকে আক্রমণ করে বলেছে, পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নেওয়ার খবর ভারতের কূটনীতির জন্য ‘বিব্রতকর’। প্রতিবেশী ও প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের এমন তৎপরতা ভারতের জন্য কিছুটা অস্বস্তিকর। বিশেষ করে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নয়াদিল্লির সম্পর্কের তুলনামূলক উত্থান-পতনের এ সময়ে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় ভারতের অস্বস্তি আরও বেড়ে গেছে।

এটাই মনে হচ্ছে, পাকিস্তান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আবার যোগাযোগের পথ তৈরি করছে। এই পরিস্থিতি ভারতের নীতিনির্ধারক গোষ্ঠীর মধ্যে চেনা একটি মতভেদকে নতুন করে উস্কে দিয়েছে।

বিরোধী দল ও কয়েকজন বিশ্লেষকের যুক্তি, ওই অঞ্চলের সঙ্গে দিল্লির নিজস্ব বহুমুখী সম্পর্ক রয়েছে। তাই দিল্লির অন্তত একজন মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়া উচিত ছিল, যাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূরাজনৈতিক পরিবর্তনের এই মুহূর্তে তাদের একেবারে অনুপস্থিত মনে না হয়।

এ নিয়ে ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস সরকারকে আক্রমণ করে বলেছে, পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নেওয়ার খবর ভারতের কূটনীতির জন্য ‘বিব্রতকর’। গত সপ্তাহে একটি সর্বদলীয় বৈঠকে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর পাকিস্তানের ভূমিকাকে ‘দালালি’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তারা ১৯৮১ সাল থেকে এমন ভূমিকা পালন করছে, এমনকি যুক্তরাষ্ট্র-তালেবান আলোচনাকালে তাদের এমন ভূমিকাই ছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি। কৌশলগত সম্পর্কবিষয়ক বিশ্লেষক ব্রহ্ম চেলানি এক্সে এক পোস্টে লিখেছেন, ‘যুদ্ধের বয়ান তৈরিতে (ওয়ার অব ন্যারেটিভস) অধিক তৎপর এবং আগ্রাসী ভূমিকা নেওয়ার ক্ষেত্রে পাকিস্তান প্রায়ই কূটনৈতিকভাবে ভারতকে ছাড়িয়ে যায়।’

তবে অনেকে মনে করেন, কেবল উপস্থিতি দেখিয়ে খুব একটা লাভবান হওয়া যায় না; বরং তারা সতর্ক করে বলেছেন, কোনো স্বার্থ ছাড়া অথবা বিনা আমন্ত্রণে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নিতে যাওয়া হিতে বিপরীত হতে পারে। তাদের মতে, নীরব থাকার কূটনীতি ও কৌশলগত দূরত্ব বজায় রেখে বরং ভারতের স্বার্থ অধিক সুরক্ষিত থাকে। ভারত সরকারও প্রায় একই সুরে কথা বলছে।

কিন্তু কয়েক বিশ্লেষক মনে করেন, দিল্লিতে মূল আলোচনা নীতির চেয়ে দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বেশি হচ্ছে। শিব নাদার বিশ্ববিদ্যালয়ের হ্যাপিমন জ্যাকব যুক্তি দেন, মূলত সমস্যাটি কৌশলগত নয়, বরং মনস্তাত্ত্বিক। জ্যাকব বলেন, ‘সবচেয়ে ভালোভাবে বলতে গেলে, এটি হলো সুযোগ হারানোর ভয়। আর সবচেয়ে খারাপ করে বললে, এটি হলো নিজেদের চেয়ে ছোট একজন প্রতিবেশীর প্রতি হিংসা।

খবরটি শেয়ার করতে নিচের বোতামগুলিতে ক্লিক করুন।

আরও খবর

বিভাগীয় সংবাদ