জুন ১৪, ২০২৬ ১০:২০ অপরাহ্ণ
■ ৩১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গণভোটের সঙ্গে বেইমানির ছাড় নেই- শফিকুর রহমান

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Print

নিউজ ডেস্ক,বিডিমিরর সেভেনটিওয়ান ডটকমঃ

গণভোটের সঙ্গে বেইমানি করায় সরকারকে ছাড় দেওয়া হবে না। জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার আদর্শ বিচ্যুত হলে বিএনপি সরকারে টিকতে পারবে না। সংস্কার বাস্তবায়ন, আইনশৃঙ্খলা এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকার ব্যর্থ হলে সংসদ এবং রাজপথ একাকার হবে।

গতকাল শুক্রবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের গণসমাবেশে এসব কথা বলেন জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা। গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারের দাবিতে আয়োজিত এই কর্মসূচি থেকে তারা সরকারের কড়া সমালোচনা করে হুঁশিয়ারি দেন, বিরোধী জোটকে যাতে রাজপথের কর্মসূচিতে বাধ্য করা না হয়।
সমাবেশ থেকে সভাপতির বক্তব্যে আগামী তিন মাসের কর্মসূচি ঘোষণা করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক। ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী দলটি আগামী মে, জুন ও জুলাই মাসে ৬৪ জেলায় গণভোট অনুযায়ী সংস্কারের পক্ষে জনমত গঠনে নাগরিক সমাবেশ করা হবে। ৫ আগস্ট ঢাকায় হবে গণমিছিল।

গতকাল জুমার নামাজের পর সমাবেশ শুরু হলেও মজলিসের নেতাকর্মী সারাদেশ থেকে সকালেই জমায়েত হন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। মাঠের মূল অংশ পূর্ণ হয়ে যায় সমাবেশের আগেই। সমাবেশকারীদের বহনকারী বাস রাস্তার পাশে রাখায় ছুটির দিনেও যানজট সৃষ্টি হয় শাহবাগ থেকে মৎস্য ভবন সড়কে।

সমাবেশে বক্তব্য দেন জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীরবিক্রম, বাংলাদেশ খেলাফতের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির মাওলানা ইউসুফ আশরাফ, নায়েবে আমির মাওলানা রেজাউল করিম জালালী, মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দিন আহমাদ, খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা সাখাওয়াত হুসাইন, নেজামে ইসলাম পার্টির জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুল মাজেদ আতহারী, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু, জাগপার সহসভাপতি রাশেদ প্রধান, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বাংলাদেশ খেলাফতের দুই এমপি মুফতি মোহাম্মদুল্লাহ ও সাইদ‌ উদ্দিন আহমাদ হানজালা, এনসিপির মুখ্য সংগঠক নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী, ডাকসু ভিপি সাদিক
কায়েম,‌ ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের প্রমুখ।

মামুনুল হক বলেন, জুলাই বিপ্লব ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গের চেতনাকে, ১৯২১ সালের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেক্ষাপটকে, ১৯৪৭ সালের স্বাধীন জাতিসত্তাকে, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকে, ২০১৩ সালের শাপলার চেতনাকে এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানকে ধারণ করে।
বিএনপির উদ্দেশে তিনি বলেন, বাংলাদেশের ৫০ বছরের রাজনীতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করবেন না। শহীদ জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সঙ্গে গাদ্দারি করে বিএনপি টিকে থাকতে পারবে না। যে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে আপনারা জন্ম নিয়েছেন, তার সঙ্গে গাদ্দারি করা মানে জন্মদাত্রী মায়ের গর্ভকে অস্বীকার করা। বাংলাদেশে অতীতে তিনটি গণভোট হয়েছে– কেউ গাদ্দারি করেনি। দুনিয়ার কোথাও গণভোটের ফলাফল বিশ্বাসঘাতকতার নজির নেই।

সরকারের ব্যর্থতার সমালোচনা করে মামুনুল হক বলেন, রেওয়াজ ভঙ্গ করে বাংলাদেশের বিজেপির এক নেতাকে রাষ্ট্রদূত করে পাঠানো হচ্ছে। অথচ সরকার টুঁ শব্দ করেনি। বন্ধুরাষ্ট্র ইরান বন্ধুত্বের দায়িত্ব পালন করে তেল দিচ্ছে, কিন্তু সরকারের কূটনীতির ব্যর্থতায় বাংলাদেশের তেলবাহী জাহাজ হরমুজে আটকে যাচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আবার অস্ত্রের ঝনঝনানি শুরু হয়েছে।
সরকারের উদ্দেশে বিরোধীদলীয় নেতা জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আধিপত্যবাদ এবং ফ্যাসিবাদ বরদাশত করা হবে না। ফ্যাসিবাদীরা বিভিন্ন বয়ান তৈরি করে জাতিকে বিভক্ত করেছিল। নির্বাচনের আগে বলেছিল, সরকার গঠন করলে সবাইকে নিয়ে দেশ চালাব। এখন আপনারা কী করছেন? একজনকে পাঠিয়ে দিচ্ছেন পাকিস্তানে, আরেকজনকে অন্য দেশে– আর আপনারা এ দেশে রাজত্ব করবেন! জুলাই স্লোগান ছিল– ‘দেশ কারও বাপের নয়’, মনে রাখবেন।
বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, ষড়যন্ত্র করে মামুনুল হককে সংসদে যেতে দেওয়া হয়নি। তবে তিনি রাজপথে রয়েছেন। যদি গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হয়, তাহলে সংসদ ও রাজপথ একাকার হয়ে যাবে। দেশের সংকটের কারণে সরকারকে সহযোগিতা করতে চেয়েছিল। অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির রাজনীতি করতে চাইনি, কিন্তু সরকার বারবার কথার বরখেলাপ করছে।

খবরটি শেয়ার করতে নিচের বোতামগুলিতে ক্লিক করুন।

আরও খবর

বিভাগীয় সংবাদ