সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ৭:৫৭ পূর্বাহ্ণ
■ ৩রা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জীবিত থেকেও সরকারি খাতায় ‘মৃত’, তিন বছর ধরে বয়স্কভাতা পান না মমিনা বেগম

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Print
ছবি অনলাইন

নিউজ ডেস্ক , বিডিমিরর সেভেনটিওয়ানডটকম : দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলা পৌরসভা-এর ৬নং ওয়ার্ডের তেঁতুলিয়া গ্রামের ৮৯ বছর বয়সী মমিনা বেগম জীবিত থাকা সত্ত্বেও সরকারি খাতায় মৃত দেখানো হয়েছে। এ কারণে তিন বছর ধরে তিনি বয়স্কভাতা থেকে বঞ্চিত, যা তার জীবনযাত্রায় চরম কষ্ট সৃষ্টি করছে।

জানা গেছে, ২০২৩ সালের ৯ আগস্ট উপজেলা সমাজসেবা অধিদপ্তর ভাতাভোগীদের ভেরিফিকেশন কার্যক্রম চালায়। তখন মমিনা বেগম ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। ভেরিফিকেশনের সময় তাকে বাড়িতে না পেয়ে তৎকালীন সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর বাবলী আরা তার নাম মৃত হিসেবে পৌর মেয়রের কাছে সুপারিশ দেন। পৌর প্রশাসনের মাধ্যমে উপজেলা সমাজসেবা দপ্তরে কাগজপত্র পাঠানো হলে মমিনা বেগমকে মৃত হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয় এবং তার বয়স্কভাতা বন্ধ হয়ে যায়।

বাড়ি ফিরে বিষয়টি জানতে পেরে বৃদ্ধা মমিনা বেগম উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে যোগাযোগ করলে তাকে জানানো হয়, সরকারি কাগজপত্রে তিনি মৃত হিসেবে রয়েছে। এরপর তিনি পৌর প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করে জীবিত থাকার প্রত্যয়নপত্র দেন। তবে আজও তার বয়স্কভাতা চালু করা যায়নি।

মমিনা বেগমের পুত্রবধূ আমিনা বেগম বলেন, আমরা খুব গরিব। মমিনা বেগম অসুস্থ। তিন বছর ধরে বয়স্কভাতা বন্ধ থাকায় খাবার ও চিকিৎসার খরচ চালানো যাচ্ছে না। ভাতা চালু হলে অন্তত ওষুধ ও খাদ্য খরচ যোগাতে পারতাম।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সানোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, সমাজসেবা দপ্তরের সার্ভারে মমিনা বেগমকে মৃত দেখানো হয়েছে। তবে বিষয়টি সংশোধন করা হয়েছে এবং বরাদ্দ আসলে তার ভাতা পুনরায় চালু করা হবে।

পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, তৎকালীন মহিলা কাউন্সিলর বাবলী আরার সুপারিশের ভিত্তিতে মমিনা বেগমকে মৃত তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। এ কারণে সমাজসেবার ভাতা ভেরিফিকেশন তালিকায় তাকে মৃত দেখিয়ে তার ভাতা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

খবরটি শেয়ার করতে নিচের বোতামগুলিতে ক্লিক করুন।

আরও খবর

বিভাগীয় সংবাদ