সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ৫:১৯ পূর্বাহ্ণ
■ ৩রা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নাইজারের বিমানবন্দরে হামলা, নিহত ৩৫

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Print

নিউজ ডেস্ক,বিডিমিরর সেভেনটিওয়ান ডটকমঃ

নাইজারের রাজধানী নিয়ামেতে অবস্থিত দেশের বৃহত্তম ও গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর ডিওরি হামানি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বন্দুকধারীদের সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে ৩৫ জন নিহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ভোরে এ ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে ২২ জন হামলাকারী, ১১ জন সেনাসদস্য এবং দুইজন বেসামরিক নাগরিক রয়েছেন।

দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।

পাঁচ মাসেরও কম সময়ের মধ্যে একই বিমানবন্দরে এটি দ্বিতীয় বড় হামলা। হামলার দায় স্বীকার করেছে আল-কায়েদার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জঙ্গিগোষ্ঠী জামাআত নুসরাত আল-ইসলাম ওয়াল-মুসলিমিন (জেএনআইএম)।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বৃহস্পতিবার ভোরে ফজরের নামাজ শেষ করার কিছুক্ষণ পরই বিমানবন্দর এলাকা থেকে বিস্ফোরণ ও গুলির শব্দ শোনা যায়। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ নাইজারের রাজধানীজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

বিমানবন্দরের কাছাকাছি বসবাসকারী লাওয়ালি সালহা বিবিসিকে বলেন, ভোর প্রায় ৫টা ৫০ মিনিটে তারা নামাজ শেষ করেন। এর কিছুক্ষণ পর একটি বিকট শব্দ শোনা যায়।

প্রথমে তারা ভেবেছিলেন কোনো টায়ার ফেটেছে বা ছোটখাটো বিস্ফোরণ ঘটেছে। পরে পরিস্থিতি দেখে তারা বুঝতে পারেন, সেখানে বড় ধরনের হামলা চলছে।

নাইজারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনীর পাল্টা অভিযানে ২২ হামলাকারী নিহত হন। এ ছাড়া চারজন হামলাকারী আহত হয়েছে এবং ২০ জন সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভিযানের সময় বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।

উদ্ধার করা অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে আরপিজি-৭ রকেট লঞ্চার, একে-৪৭ রাইফেল, গ্রেনেড, বিস্ফোরক, যোগাযোগের সরঞ্জাম এবং হাজার হাজার রাউন্ড গুলি।

হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। সকাল গড়ানোর আগেই মূল সংঘর্ষ শেষ হয়ে যায়। এরপর নিরাপত্তা বাহিনী পালিয়ে যাওয়া হামলাকারীদের খুঁজে বের করতে ব্যাপক অভিযান শুরু করে। স্থানীয় কিছু বাসিন্দাও অভিযানে অংশ নেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা সাধারণ মানুষকে অভিযানে সরাসরি অংশ নিতে নিরুৎসাহিত করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা বলেন, হামলাকারীরা স্থানীয় জনগণের মধ্যে মিশে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল। ফলে তাদের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় অনেক বাসিন্দা নিজেদের নিরাপত্তার জন্য দা, লাঠি ও অন্যান্য সরঞ্জাম হাতে নিয়ে সতর্ক অবস্থান নেন। হামলার পর বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে বিমানবন্দর-সংলগ্ন এলাকা ঘিরে ফেলে নিরাপত্তা বাহিনী। ওই এলাকায় প্রবেশ ও বের হওয়ার সব পথ নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়। যানবাহন ও যাত্রীদের কঠোর তল্লাশির মধ্য দিয়ে যেতে হয়।

খবরটি শেয়ার করতে নিচের বোতামগুলিতে ক্লিক করুন।

আরও খবর

বিভাগীয় সংবাদ