রাজনীতি ডেস্ক , বিডি মিরর সেভেনটি ওয়ান ডটকম
ঝিনাইদহ-৪ আসনে নির্বাচনের ফলাফলকে কেন্দ্র করে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী রাশেদ খান ও কাপ-পিরিচ প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজের সমর্থকদের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ২৫ জন আহতের খবর পাওয়া গেছে।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত দুপক্ষের মধ্যে দফায় দফায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে একপক্ষ অন্যপক্ষের ওপর হামলার অভিযোগ তুলেছে দুই পক্ষ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের কোন্দল সৃষ্টি হয়। আসনটিতে জয়ী হন জামায়াত প্রার্থী মো. আবু তালিব। এই ফলাফলকে কেন্দ্র করে শুক্রবার সকালে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজের (কাপ-পিরিচ প্রতীক) সমর্থক এবং ধানের শীষের সমর্থকদের এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়। এক পর্যায়ে দুপক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এসময় কাপ-পিরিচ প্রতীকের একটি নির্বাচনী অফিসে হামলা চালিয়ে আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়। সকাল থেকে শুরু হওয়া এই সংঘর্ষের একপর্যায়ে মহেশপুর প্রেস ক্লাব কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে সেখানে থাকা আসবাবপত্র ভাঙচুর চালায় দুর্বৃত্তরা। সংঘর্ষ চলাকালে স্থানীয় জামায়াত নেতারা পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। একপর্যায়ে তাদের ওপরও হামলার ঘটনা ঘটে।
সর্বশেষ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় কালিগঞ্জ ও মহেশপুর থানা পুলিশ। সংঘর্ষে আহত ২৫ জনকে উদ্ধার করে স্থানীয় কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। সেখান থেকে কয়েকজনকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল ও যশোর জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে স্থানীয় ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির এবং একই পরিবারের বাবা-ছেলে রয়েছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
সর্বশেষ বিকেল ৪টার দিকে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
কাপ-পিরিচ প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজ অভিযোগ করে বলেন, বিনা উস্কানিতে আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করা হয়েছে। আমাদের কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়েছে। আমি পুলিশের সহযোগিতা চেয়েও পাইনি।
ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী রাশেদ খান পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, উনি (সাইফুল ইসলাম ফিরোজ) কেন্দ্রীয় নির্দেশনা না মেনে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আমাকে হারাতে নির্বাচন করেছে। ফলাফল ঘোষণার পর উদ্দেশ্যেমূলকভাবে আমাদের ওপর হামলা করেছে।
কালিগঞ্জ থানার ওসি জেল্লাল হোসেন বলেন, সহযোগিতা না করার অভিযোগ সত্য নয়; সবদিকেই নির্বাচনের কাজের চাপ। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ফোর্স পাঠানো হয়েছে। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক এই ব্যাপারে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।







