সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ৫:২৪ পূর্বাহ্ণ
■ ৩রা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফ্রান্সের ত্রিফলা থামাতে স্পেনের ছক

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Print

নিউজ ডেস্ক,বিডিমিরর সেভেনটিওয়ান ডটকমঃ

এবারের বিশ্বকাপে ফ্রান্সের খেলা মানেই কিলিয়ান এমবাপ্পে, উসমান দেম্বেলে ও মাইকেল ওলিসের নৈপুণ্যের গল্প। দুরন্ত গতিতে আক্রমণে উঠে প্রতিপক্ষকে ছিন্নভিন্ন করে দেন এই ফরাসি ত্রয়ী। মাঠে তাদের মধ্যে তাল, লয় তথা মেলবন্ধন এতটাই দুর্দান্ত যে মনে হয় সবুজ ঘাসের ক্যানভাসে ভ্যান গগের মতো পৃথিবী বিখ্যাত কোনো শিল্পীর নিপুণ চিত্রকর্ম! তাদের মুগ্ধতা ছড়ানো আগ্রাসী ফুটবল দেখে এবারের আসরের সবচেয়ে চর্চিত প্রশ্ন, ফ্রান্সের এই ‘ত্রিফলা’কে থামাবে কে? সেমিফাইনালের আগেও ঘুরেফিরে এই প্রশ্নই আসছে, স্পেন কি পারবে এই ত্রয়ীকে থামাতে?

তাই বলে ফরাসিদের এই বিধ্বংসী গতি নিয়ে উদ্বিগ্ন নন স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্ত। তিনি নিজেদের স্বাভাবিক খেলা দিয়েই এই গতির লাগাম টানতে চান। ফরাসিরা যেমন গতিনির্ভর ফুটবল খেলে, আর স্প্যানিশদের ট্রেডমার্ক হলো পাসিং ফুটবল। স্প্যানিশ কোচের বিশ্বাস অতীতের মতো পাসিং ফুটবল দিয়েই বাজিমাত করবে তাঁর দল। যেমনটা ২০২৪ সালে ইউরোর সেমিতে ২-১ গোলে জিতেছিলেন এবং ২০২৫ সালে নেশনস লিগের সেমিতে ৫-৪ গোলের থ্রিলার জিতেছিলেন। এই পাসিং ফুটবল দিয়ে কি হ্যাটট্রিক জয়ের দেখা পাবে স্পেন?

তবে এবার এতটা সহজ হবে না। দুর্দান্ত ফর্মে আছে ফ্রান্স। গতি দিয়ে প্রতিপক্ষকে রীতিমতো উড়িয়ে দিচ্ছেন এমবাপ্পে-দেম্বেলরা। দাপুটে পারফরম্যান্সে শতভাগ জয় নিয়ে গ্রুপ পর্ব পার হয়েছে তারা। এরপর শেষ ৩২, শেষ ষোলো এবং কোয়ার্টার ফাইনাল– কোনোটিতেই অতিরিক্ত সময়ে গড়ায়নি তাদের ম্যাচ। এই দাপটের কারণেই শিরোপার সবচেয়ে বড় দাবিদার হিসেবে তাদের মানছেন বোদ্ধারা। অনেকের মতে, গত দুবার ফাইনাল খেলা দলের চেয়ে এবারের ফ্রান্স বেশি শক্তিশালী। এর সবচেয়ে বড় কারণ এমবাপ্পের নেতৃত্বে ফরাসি এই ত্রয়ী জীবনের সেরা খেলাটা খেলছে। এমবাপ্পে ৮ গোলের পাশাপাশি ৩টি অ্যাসিস্টও করেছেন। দেম্বেলে ৫ গোল করে ফেলেছেন। দুর্দান্ত খেলেও ওলিসের এখনও গোল না পাওয়াটা একটা রহস্য বটে। তবে ৫টি অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো এই তিনজনের মধ্যে আছে টেলিপ্যাথিক বোঝাপড়া। একজনের কাছে বল গেলে আরেকজনের অবস্থান বুঝতে তাকাতে হয় না। অটোমেটিক সংযোগ স্থাপিত হয়ে যায়।

পরস্পরের মোকাবিলায় গত দুবার যে স্পেন জিতেছিল, সেটার পেছনে অন্যতম ভূমিকা ছিল লামিনে ইয়ামালের। এবারও ইয়ামাল আছেন। হ্যামস্ট্রিং চোট থেকে উঠে ১৯ বছরের এ তরুণ বিশ্বকাপে এলেও এখনও পুরোপুরি ছন্দে ফিরতে পারেননি। গোল করেছেন মাত্র ১টি। তবে প্রায় প্রতি ম্যাচেই ড্রিবলিং, দুর্দান্ত শট ও চমৎকার পাস দিয়ে প্রতিপক্ষের সীমানায় ভীতি ছড়াচ্ছেন। স্পেনের সাফল্যের আরেক রূপকার নিকো উইলিয়ামসও মাত্র চোট থেকে উঠেছেন। গত কয়েক ম্যাচে বদলি হিসেবে নামলেও আগের সেই ধার দেখা যাচ্ছে না তাঁর খেলায়। এর পরও স্পেনের কোচ দে লা ফুয়েন্তে অতীতের সাফল্যের কারণেই আশাবাদী, ‘ফ্রান্সের শক্তি সম্পর্কে আমরা জানি। আমাদের নিজেদের পরিকল্পনায় অবিচল থাকতে হবে। আমরা কোনো নির্দিষ্ট ছকে আটকে থাকার দল নই। নিজেদের ধরনে খেলেই ফ্রান্সের বিপক্ষে সর্বশেষ দুই ম্যাচে আমরা জয় পেয়েছি।’

তবে ফ্রান্সের বর্তমান দলটি যে বেশ ভয়ংকর, তা বেশ ভালো মতোই জানেন স্পেনের কোচ, ‘দুই বছর আগের চেয়ে তারা এখন পুরোপুরি ভিন্ন এক দল। আগের অনেক খেলোয়াড় দলে থাকলেও এটা একদম ভিন্ন একটা সময়। খেলার ধরন ও কৌশল উভয় ক্ষেত্রেই অনেক পরিবর্তন দেখা যাবে। তারা গতিময় ফুটবলে স্বচ্ছন্দ, তাই আমাদের নিজেদের খেলার ধরনটা বজায় রাখতে হবে।’ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের বিশ্লেষণে বোঝা যায়, রদ্রি ও পেদ্রিকে দিয়ে পাসিং ফুটবলে মিডফিল্ড দখলে রাখতে চায় স্পেন। এ দুই মিডফিল্ডার খেলার লাগাম ধরতে পারলে ফরাসি ত্রয়ী বলের পর্যাপ্ত জোগান পাবে না।

খবরটি শেয়ার করতে নিচের বোতামগুলিতে ক্লিক করুন।

আরও খবর

বিভাগীয় সংবাদ