সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ৫:৩০ পূর্বাহ্ণ
■ ৩রা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বন্ধ কলকারখানা চালুর ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Print

নিউজ ডেস্ক,বিডিমিরর সেভেনটিওয়ান ডটকমঃ

বাংলাদেশের শিল্পায়ন এবং শ্রমজীবী মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে এক যুগান্তকারী অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। মহান মে দিবস উপলক্ষে রাজধানী ঢাকার নয়াপল্টনে আয়োজিত বিশাল শ্রমিক সমাবেশে তিনি বিগত স্বৈরাচারী সরকারের আমলে ধ্বংস হওয়া শিল্প খাতকে পুনরুজ্জীবিত করার সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেন। তাঁর ভাষণে উঠে এসেছে বেকারত্ব দূরীকরণ, নতুন বিনিয়োগ এবং শ্রমিকের জীবনমান উন্নয়নের সমন্বিত পরিকল্পনা।

সমাবেশের মঞ্চে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরাসরি শ্রমিকদের দাবির প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, দেশের অর্থনীতিকে পুনরায় সচল করতে এবং বেকার শ্রমিকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানাগুলো চালুর উদ্যোগ নিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, জনগণের রায়ে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তাঁর প্রধান লক্ষ্য ছিল ধুঁকতে থাকা শিল্প খাতকে টেনে তোলা। তিনি সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে নির্দেশ দিয়েছেন এবং এই সপ্তাহেই একটি উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারণী বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সেখানে নির্ধারিত হবে ঠিক কত দ্রুত এবং কোন প্রক্রিয়ায় বন্ধ কারখানাগুলোর চাকা আবার সচল করা যায়। তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, কারখানা চালু হওয়া মানে কেবল উৎপাদন বৃদ্ধি নয়, বরং হাজার হাজার পরিবারের মুখে হাসি ফোটানো এবং বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তি।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় ধরে এ দেশের প্রতিটি শ্রেণি, পেশার মানুষকে তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছিল। তিনি অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে দেশের শিল্পকারখানাগুলো বন্ধ করে দিয়ে বাংলাদেশকে একটি আমদানিনির্ভর দেশে পরিণত করার চক্রান্ত করা হয়েছিল।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে স্মরণ করিয়ে দেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ছাত্র, জনতার মহাবিপ্লব ছিল এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে এক চূড়ান্ত রায়। স্বৈরাচারী শাসনামলে লুটপাটের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে দেউলিয়া করে দেওয়া হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে শ্রমজীবী ভাই, বোনদের ওপর।

কেবল পুরনো কারখানা চালু নয়, বরং আধুনিক ও যুগোপযোগী নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্র তৈরিতেও বর্তমান সরকার কাজ করছে বলে প্রধানমন্ত্রী জানান। তিনি উল্লেখ করেন, তাঁর সরকার ইতিমধেই দেশি ও বিদেশি বড় বিনিয়োগকারীদের সাথে আলোচনা শুরু করেছে।

প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ্য হলো বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমিয়ে নতুন নতুন শিল্প স্থাপনে উৎসাহ প্রদান করা হবে। পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতির সাথে তাল মিলিয়ে শ্রমিকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ শ্রমিক গড়ে তোলা এবং আমদানিনির্ভরতা কাটিয়ে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ পণ্যকে বিশ্ববাজারে ছড়িয়ে দিয়ে রপ্তানি বাড়ানো হবে।

খবরটি শেয়ার করতে নিচের বোতামগুলিতে ক্লিক করুন।

আরও খবর

বিভাগীয় সংবাদ