নিউজ ডেস্ক,বিডিমিরর সেভেনটিওয়ান ডটকমঃ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বর্তমানে বাংলাদেশে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ রয়েছে। আগ্রহী বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সব ধরনের সহযোগিতা করতে সরকার প্রস্তুত।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশের (অ্যামচেম) একটি প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা বলেন।
গতকাল বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব গাজী শাহরিয়ার পামির এ কথা জানান। অ্যামচেম বাংলাদেশের পক্ষে সংগঠনটির সভাপতি ও মাস্টারকার্ডের ভাইস প্রেসিডেন্ট সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল আট সদস্যের এই প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন।
অ্যামচেম প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীকে জানান, প্রায় দুই মাস আগে সংগঠনটির নতুন কমিটি দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। নতুন কমিটি বাংলাদেশে আরো মার্কিন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরো জোরদারে কাজ করছে।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ রয়েছে। আগ্রহী বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সব ধরনের সহযোগিতা করতে সরকার প্রস্তুত।
সাক্ষাৎকালে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর, প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী।
এদিকে অ্যামচেম বাংলাদেশে আগামী পাঁচ বছরে আরো পাঁচ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ আকর্ষণে ভূমিকা রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সংগঠনটি জানায় বর্তমানে তাদের সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশে পাঁচ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করেছে এবং নতুন মার্কিন বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার জন্য সরকারি ও বেসরকারি খাতের অংশীদারি আরো জোরদার করা প্রয়োজন।
বৈঠকে অ্যামচেম জানায়, ১৯৯৬ সাল থেকে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারে তারা কাজ করে আসছে। সংগঠনটির সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলো সম্মিলিতভাবে দেশের মোট কর রাজস্বের ২০ শতাংশের বেশি অবদান রাখছে, যা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে মার্কিন ব্যাবসায়িক সম্প্রদায়ের গুরুত্বপূর্ণ উপস্থিতি নির্দেশ করে।
বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সব ধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত সরকার
অ্যামচেমের পক্ষ থেকে বলা হয়, বিদ্যমান সদস্য প্রতিষ্ঠান এবং বাংলাদেশে বিনিয়োগ বিবেচনা করছে এমন সম্ভাব্য মার্কিন কম্পানিগুলোর মাধ্যমে আগামী পাঁচ বছরে আরো পাঁচ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ আনার সুযোগ রয়েছে। এ লক্ষ্য অর্জনে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করা হয়।
প্রতিনিধিদল সরকারের সাম্প্রতিক বিনিয়োগ ও ব্যবসাবান্ধব সংস্কার কর্মসূচির প্রশংসা করে। বিশেষ করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনুমোদন ও লাইসেন্স প্রদান, সিঙ্গল উইন্ডো ব্যবস্থা, কর ও ভ্যাট প্রশাসনের ডিজিটাইজেশন, মূলধন ও মুনাফা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার উন্নয়ন এবং কাস্টমস প্রক্রিয়া সহজ করার উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে অগ্রাধিকার খাতগুলোতে দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
ডিজিটাল অর্থনীতির বিকাশেও বেশ কিছু সুপারিশ তুলে ধরে অ্যামচেম। সংগঠনটি ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা আইন (পিডিপিএ) ও জাতীয় ডিজিটাল গভর্ন্যান্স কাঠামো (এনডিজিএ) প্রণয়নকে স্বাগত জানিয়ে এআই গ্রহণ, সাইবার নিরাপত্তা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতা জোরদারের আহবান জানায়।
বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির কাঠামোকেও একটি কৌশলগত সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। অ্যামচেমের মতে, এই উদ্যোগ শুধু বাজারে প্রবেশাধিকারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ক্লাউড কম্পিউটিং, স্বাস্থ্যসেবা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, উন্নত উৎপাদন ব্যবস্থা এবং আর্থিক খাতের আধুনিকায়নেও নতুন সহযোগিতার দ্বার খুলতে পারে।
প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি ‘ডিজিটাল ইকোনমি অ্যাডভাইজারি ফোরাম’ বা টাস্কফোর্স এবং একটি ‘পাবলিক-প্রাইভেট কম্পিটিটিভনেস কাউন্সিল’ গঠনের প্রস্তাবও দেয় অ্যামচেম। এসব প্ল্যাটফর্মে সরকার, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার কথা বলা হয়।
জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক রূপান্তরের একটি নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে এবং দেশে বিনিয়োগের জন্য অনুকূল পরিবেশ বিদ্যমান। তিনি জানান, চলমান সংস্কার কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি সেগুলোর কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। সম্ভাব্য বিদেশি বিনিয়োগকারীদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ারও আশ্বাস দেন তিনি।
সাক্ষাৎকালে অ্যামচেম ও বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ৩০তম ইউএস ট্রেড শোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়।







