সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ২:২২ পূর্বাহ্ণ
■ ৩রা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাবে বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে বড় দরপতন

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Print
ছবি অনলাইন

 

নিউজ ডেস্ক , বিডিমিরর সেভেনটিওয়ান ডটকম:

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর দেশের পুঁজিবাজারে বড় ধরনের ধস নেমেছে। লেনদেনে অংশ নেওয়া অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে, সবকটি সূচকে বড় পতন দেখা গেছে এবং কমেছে মোট লেনদেনের পরিমাণও।

বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় বৈশ্বিক বাজারে অনিশ্চয়তা বেড়েছে, যার প্রভাব পড়েছে দেশীয় পুঁজিবাজারে। এতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে দীর্ঘদিন ধরে বাজার নিম্নমুখী থাকায় আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত বিক্রির চাপ না বাড়লে দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন তারা।

সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রোববার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) মাত্র ৩০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের দর কমায় প্রধান সূচক ১৩৮ পয়েন্ট হারিয়ে ৫ হাজার ৪৬১ পয়েন্টে নেমে আসে। ডিএসই শরিয়াহ সূচক ২৬ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৮৯ পয়েন্ট এবং ডিএসই-৩০ সূচক ৫২ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১১৭ পয়েন্টে দাঁড়ায়।
ছবি অনলাইন

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) একই চিত্র দেখা গেছে। সিএএসপিআই সূচক কমেছে ২৪৫ পয়েন্ট। লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৮৪ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৩৫টির দাম বাড়লেও ১৩৮টির কমেছে এবং ১১টির দর অপরিবর্তিত ছিল। এ বাজারে লেনদেন হয়েছে ১২ কোটি ৭৮ লাখ টাকা, যা আগের কার্যদিবসের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে কম।

ডিএসইতে লেনদেন শুরুর পরপরই আতঙ্কে একশ্রেণির বিনিয়োগকারী শেয়ার বিক্রিতে ঝুঁকে পড়েন। এতে শুরুতেই সূচক ২২৩ পয়েন্ট পড়ে যায়। পরে কিছু ক্রেতা সক্রিয় হলেও বিক্রির চাপ বেশি থাকায় বড় পতন দিয়েই লেনদেন শেষ হয়।

ব্রোকারেজ হাউসগুলোর কর্মকর্তারা জানান, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিহত হওয়ার খবরে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। এই খবরে বাজার খোলার সঙ্গে সঙ্গেই বিনিয়োগকারীদের একাংশ ব্যাপক বিক্রির চাপ তৈরি করেন, ফলে অল্প সময়েই বড় দরপতন ঘটে।

ছবি অনলাইন

দিন শেষে ডিএসইতে ৩৫৩টি প্রতিষ্ঠানের দাম কমেছে, ৬টির অপরিবর্তিত রয়েছে। ১০ শতাংশ বা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া ভালো কোম্পানিগুলোর মধ্যে মাত্র ৭টির দাম বেড়েছে, বিপরীতে ১৯২টির কমেছে। ‘জেড’ গ্রুপভুক্ত ২১টি কোম্পানির দর বাড়লেও ৮৪টির কমেছে। তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর মধ্যে ২টির দাম বেড়েছে, ২৯টির কমেছে।

লেনদেনের পরিমাণও কমেছে উল্লেখযোগ্যভাবে। ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ৭৭৫ কোটি ৫৬ লাখ টাকা, যা আগের কার্যদিবসের তুলনায় ১৭১ কোটি ৭২ লাখ টাকা কম।লেনদেনে সবার শীর্ষে ছিল সিটি ব্যাংক, যার ৩৯ কোটি ৬৭ লাখ টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছে।

এরপর ছিল খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ ও ওরিয়ন ইনফিউশন। লেনদেনের শীর্ষ তালিকায় আরও ছিল রবি, ব্যাংক এশিয়া, ব্র্যাক ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক, আনোয়ার গ্যালভানাইজিং, বেক্সিমকো ফার্মা ও ঢাকা ব্যাংক।

এদিন দর বৃদ্ধির শীর্ষে উঠে আসে শাইনপুকুর সিরামিকস পিএলসি, যার শেয়ারদর প্রায় ১০ শতাংশ বেড়েছে। দ্বিতীয় স্থানে ছিল ইনফরমেশন সার্ভিসেস নেটওয়ার্ক (আইএসএন) এবং তৃতীয় স্থানে ব্যাংক এশিয়া।

খবরটি শেয়ার করতে নিচের বোতামগুলিতে ক্লিক করুন।

আরও খবর

বিভাগীয় সংবাদ