সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ৬:১৫ পূর্বাহ্ণ
■ ৩রা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজধানীর শিশুদের স্ক্রিন-নির্ভর জীবন, গবেষণায় উঠে এলো ভয়ংকর তথ্য

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Print

নিউজ ডেস্ক,বিডিমিরর সেভেনটিওয়ান ডটকমঃ

রাজধানীর শিশুদের দৈনন্দিন জীবনে মোবাইল ফোন, ট্যাব, টেলিভিশন ও কম্পিউটারের ব্যবহার এখন উদ্বেগজনক মাত্রায় পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ-ি আইসিডিডিআর, বি-এর এক গবেষণা। গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারের কারণে শিশুদের ঘুম, শারীরিক বৃদ্ধি এবং মানসিক স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে পরিচালিত এ গবেষণায় ঢাকার ছয়টি স্কুলের ৬ থেকে ১৪ বছর বয়সী ৪২০ জন শিশুর তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। এর মধ্যে ছিল তিনটি বাংলা মাধ্যম ও তিনটি ইংরেজি মাধ্যমের স্কুল। গবেষণার ফল সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে চিকিৎসাবিষয়ক সাময়িকী জার্নাল অব মেডিকেল ইন্টারনেট রিসার্চ (জেএমআইআর) হিউম্যান ফ্যাক্টরস-এ।

গবেষণায় উঠে এসেছে, প্রতি পাঁচজন শিশুর মধ্যে চারজনই প্রতিদিন দুই ঘণ্টার বেশি সময় স্ক্রিনে কাটায়। আন্তর্জাতিকভাবে শিশুদের বিনোদনমূলক স্ক্রিন ব্যবহারের যে সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে, অধিকাংশ শিশু তা অতিক্রম করছে। গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৪ দশমিক ৬ ঘণ্টা সময় তারা ব্যয় করছে স্মার্টফোন, টিভি, ট্যাব, কম্পিউটার বা গেমিং ডিভাইসে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই দীর্ঘ স্ক্রিন-নির্ভরতা শুধু সময় নষ্টের বিষয় নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি। গবেষণায় দেখা গেছে, অংশ নেওয়া শিশুদের বড় একটি অংশ নিয়মিত মাথাব্যথা ও চোখের সমস্যায় ভুগছে। যেসব শিশু দীর্ঘ সময় স্ক্রিন ব্যবহার করে, তাদের ঘুমের সময়ও কমে যাচ্ছে। দিনে দুই ঘণ্টার বেশি স্ক্রিনে থাকা শিশুদের গড় ঘুম মাত্র ৭ দশমিক ৩ ঘণ্টা, যেখানে এ বয়সে সুস্থ বিকাশের জন্য প্রয়োজন অন্তত ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা ঘুম।

গবেষণায় আরও উঠে এসেছে, অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারের সঙ্গে শিশুদের ওজন বৃদ্ধির সম্পর্কও রয়েছে। অংশগ্রহণকারী শিশুদের প্রায় ১৪ শতাংশ অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতার সমস্যায় আক্রান্ত। একই সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেও উদ্বেগজনক তথ্য পাওয়া গেছে। প্রায় প্রতি পাঁচজনের মধ্যে দুইজন শিশু দুশ্চিন্তা, অতিচঞ্চলতা বা আচরণগত সমস্যার মতো মানসিক জটিলতায় ভুগছে।

গবেষকরা শিশুদের তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি তাদের শারীরিক পরীক্ষা করেন এবং ঘুম, আচরণ ও মানসিক অবস্থার মূল্যায়নে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত কয়েকটি প্রশ্নপত্র ব্যবহার করেন। এর মধ্যে ছিল পিটসবার্গ স্লিপ কোয়ালিটি ইনডেক্স, স্ট্রেংদস অ্যান্ড ডিফিকাল্টিস কোয়েশ্চেনেয়ার এবং ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ওয়েল-বিয়িং অ্যাসেসমেন্ট।

গবেষণার প্রধান গবেষক ডা. শাহরিয়া হাফিজ কাকন বলেন, শিশুদের মধ্যে দেরিতে ঘুমানো, মনোযোগ কমে যাওয়া, খিটখিটে আচরণ, বাইরের খেলাধুলা থেকে দূরে থাকা কিংবা চোখে অস্বস্তির মতো বিষয়গুলোকে হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। এগুলো অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে।

চোখের সুরক্ষায় গবেষকরা শিশুদের জন্য ‘২০-২০-২০’ নিয়ম অনুসরণের পরামর্শ দিয়েছেন। অর্থাৎ প্রতি ২০ মিনিট স্ক্রিন ব্যবহারের পর অন্তত ২০ সেকেন্ড ২০ ফুট দূরের কোনো কিছুর দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে।

আইসিডিডিআর,বি’র নির্বাহী পরিচালক ডা. তাহমিদ আহমেদ বলেছেন, ডিজিটাল ডিভাইস এখন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হলেও শিশুদের সুস্থ বিকাশ নিশ্চিত করতে স্ক্রিন ব্যবহারে সীমা টানা জরুরি। তিনি অভিভাবকদের সন্তানদের খেলাধুলা, শারীরিক কর্মকাণ্ড, পর্যাপ্ত ঘুম এবং পরিবারকেন্দ্রিক সময় কাটানোর প্রতি উৎসাহিত করার আহ্বান জানান।

খবরটি শেয়ার করতে নিচের বোতামগুলিতে ক্লিক করুন।

আরও খবর

বিভাগীয় সংবাদ