আন্তর্জাতিক ডেস্ক , বিডিমিরর সেভেনটিওয়ান ডটকম:
দীর্ঘ অর্ধশতাব্দীর বিরতি কাটিয়ে মানবজাতিকে আবারও চাঁদের কক্ষপথে ফিরিয়ে নিতে ঐতিহাসিক ‘আর্টেমিস–২’ মিশনের তারিখ ঘোষণা করেছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। সংস্থাটি জানিয়েছে যে, আগামী ৬ মার্চ ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে বিশালাকৃতির রকেট উৎক্ষেপণের মধ্য দিয়ে এই রোমাঞ্চকর অভিযানের সূচনা হবে।
এই মিশনে চারজন মহাকাশচারী চন্দ্রযানে করে চাঁদের চারপাশে ঘুরে তথ্য সংগ্রহ করবেন এবং অত্যন্ত কাছ থেকে চাঁদকে পর্যবেক্ষণ করবেন। নাসা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, প্রস্তুতির অগ্রগতির ওপর ভিত্তি করে এই তারিখ কিছুটা পরিবর্তিত হতে পারে, তবে বর্তমান লক্ষ্যমাত্রা ৬ মার্চ নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর আগে চলতি মাসের শুরুতে প্রথম দফার মহড়ায় হাইড্রোজেন লিকের কারণে কিছুটা সমস্যা দেখা দিলেও দ্বিতীয় পরীক্ষায় প্রকৌশলীরা তা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছেন। নাসার প্রশাসক জ্যারেড আইজ্যাকম্যান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন যে, এই সফল পরীক্ষা চাঁদের পরিবেশে আমেরিকার প্রত্যাবর্তনের পথে একটি বড় অগ্রগতি।

আর্টেমিস–২ মিশনে অংশ নিতে যাওয়া চারজন সাহসী নভোচারী হলেন রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কোচ এবং কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সির জেরেমি হ্যানসেন। প্রায় ১০ দিনের এই দীর্ঘ মহাকাশযাত্রায় নভোচারীরা প্রথমে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করবেন এবং এরপর চাঁদের চারপাশে ‘ফিগার-এইট’ আকৃতির পথে উড্ডয়ন করবেন। তবে এই অভিযানে চন্দ্রযানটি চাঁদের মাটিতে অবতরণ করবে না, কারণ ‘ওরিয়ন’ মহাকাশযানটি বর্তমান কাঠামোর হিসেবে পৃষ্ঠে অবতরণের জন্য তৈরি নয়।
নভোচারীরা চাঁদের দূরবর্তী পাশ অতিক্রম করে উড্ডয়ন করার সময় অ্যাপোলো–১৩ মিশনের গড়া দূরত্বের রেকর্ড ভেঙে দিতে পারেন এবং মানুষের ইতিহাসে সবচেয়ে দূরে ভ্রমণকারী হিসেবে নিজেদের নাম লেখাবেন।
নাসার এই চন্দ্রাভিযানকে ভবিষ্যতের মঙ্গল গ্রহে অভিযানের একটি প্রস্তুতি ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ১৯৭২ সালে অ্যাপোলো–১৭ মিশনের পর এটিই হবে চাঁদের কক্ষপথে মানুষের প্রথম পদযাত্রা। আর্টেমিস–২ মিশন সফল হলে নাসা পরবর্তী ধাপ ‘আর্টেমিস–৩’ নিয়ে কাজ শুরু করবে, যার মাধ্যমে ২০২৭ বা ২০২৮ সালের দিকে দীর্ঘ ৫৪ বছর পর মানুষ সরাসরি চাঁদের মাটিতে পা রাখবে।

এমন এক সময়ে নাসা এই অভিযান জোরদার করেছে যখন চীনও ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদে মানুষ পাঠানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। মূলত মহাকাশ গবেষণায় নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখতেই নাসা এই দীর্ঘ প্রতীক্ষিত মিশনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।







