সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ৮:৫০ পূর্বাহ্ণ
■ ৩রা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নাটোরে পৃথক সংঘর্ষে আহত অন্তত ৩০

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Print

নিউজ ডেস্ক,বিডিমিরর সেভেনটিওয়ান ডটকমঃ

নাটোরের সিংড়ায় বিরোধপূর্ণ জমির দখল নিয়ে দুপক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার সকালে উপজেলার ডাহিয়া ইউনিয়নের পারিল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। একই দিন জেলার লালপুর ও বড়াইগ্রামে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষে আহত হয়েছেন আরও ১০ জন।

যুবদলের দুপক্ষের সংঘর্ষ
যুবদলের দুই নেতার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষ হয়। লালপুর ও বড়াইগ্রাম উপজেলার সীমান্তবর্তী গুনাইহাটি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, লালপুর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মজনু পাটোয়ারী ও সদস্য নাদিম হোসেন দোহা দুজনই কদিমচিলান ইউনিয়ন পরিষদ থেকে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করতে আগ্রহী। তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলছিল। স্থানীয় গোধড়া বাজারে পল্লিচিকিৎসক ও ওয়ার্ড যুবদল নেতা রাশেদের দোকানে নাদিম হোসেন দোহার কর্মীরা আড্ডা দিতেন। শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে মজনু পাটোয়ারী তাদের সেখানে বসতে দিতে নিষেধ করেন। এ নিয়ে রাশেদ ও মজনুর মধ্যে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে মজনুর কর্মীরা রাশেদের দোকানে ভাঙচুর চালায় ও তাঁকে পিটিয়ে আহত করে।

এ খবর রাশেদের বাড়ি বড়াইগ্রামের গুনাইহাটি গ্রামে ছড়িয়ে পড়লে তাঁর স্বজনসহ অনুসারীদের সঙ্গে লালপুরের গোধড়া গ্রামের লোকেরা দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে উত্তেজিত লোকজন নাটোর-পাবনা মহাসড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে প্রায় দেড় ঘণ্টা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে। এ সময় গুনাইহাটি মোড়ে মজনু পাটোয়ারীর সমর্থকদের একটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ বিষয়ে বড়াইগ্রাম থানার ওসি আবদুস ছালাম ও লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে দুই থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

সিংড়ায় জমি নিয়ে সংঘর্ষ
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পারিল গ্রামের একটি জায়গার দখল নিয়ে ওই গ্রামের সিরাজুল ইসলাম ও আবুল কালামের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। স্থানীয় নেতৃবৃন্দের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও আবুল কালাম পক্ষের লোকজন ওই জায়গায় বাঁশ ও টিন দিয়ে ঘর নির্মাণ করতে গেলে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। এতে এক নারীসহ উভয়পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হন।
সংঘর্ষে আহতরা হলেন– হাসি খাতুন, মো. ইসলাম, আল আমিন, মুরশিদুল, মহসিন, নাফিজুল, ইমন, মিলন, সিরাজুল, ফরহাদ, আইনাল, আসাদ, রুবেল, ফরহাদ, হাফিজ, সাকিল, মাহফুজুল, রাব্বানী, রহিদুল ও রুবেল।

আবুল কালাম পক্ষের মুরশিদুল ইসলাম দাবি করেন, ‘জায়গাটি তাদের মালিকানাধীন। গ্রামের কিছু লোকজন জোরপূর্বক দখল করতে চাইলে তারা বাধা দেন। সংঘর্ষে তাদের পক্ষে ১১ জন আহত হয়েছেন। ১০ জন চিকিৎসা নিয়ে বাসায় ফিরেছেন। একজন হাসপাতালে ভর্তি আছেন। এ ঘটনায় শনিবার (আজ) তারা মামলা করবেন।’
সিংড়া থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, বিরোধপূর্ণ একটি জায়গায় একপক্ষ ধান কাটা শ্রমিকদের থাকার ঘর নির্মাণ গেলে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

খবরটি শেয়ার করতে নিচের বোতামগুলিতে ক্লিক করুন।

আরও খবর

বিভাগীয় সংবাদ