সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ৫:১১ পূর্বাহ্ণ
■ ৩রা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বন্দোবস্তের জমির মালিকানা দাবি বিএনপি নেতার

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Print

নিউজ ডেস্ক,বিডিমিরর সেভেনটিওয়ান ডটকমঃ
দীর্ঘমেয়াদি বন্দোবস্ত নেওয়া সরকারি জমি ক্রয়সূত্রে মালিকানা দাবি করছেন বরিশাল মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক একেএম শহীদুল্লাহ। নগরের বিনোদনকেন্দ্র ত্রিশ গোডাউন-সংলগ্ন কীর্তনখোলা তীরে এক একর ১২ শতাংশ জমিটি তিনি বিক্রির উদ্যোগও নিয়েছেন। শহীদুল্লাহ এক সময় ১২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলরও ছিলেন।

জানা গেছে, ওই জমিতে আগে একটি পাকা ভবন, বাগান ও পুকুর ছিল। পিকনিক স্পট হিসেবেও ব্যবহৃত হতো সেটি। মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরে ওয়ান ইলেভেন সরকারের সময় প্রশাসন ওইসব স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেয়। পরে নির্বাচিত সরকার এলে ওই জমি আবারও শহীদুল্লাহর নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। স্থানীয় একাধিক সূত্র দাবি করেছে, এটি খাসজমি। জমিটি ভরাট করে এখন তা বিক্রির পাঁয়তারা চলছে।
সরেজমিন দেখা গেছে, বালু ফেলে ভরাট করা হয়েছে পুকুর। ওই জমি লাগোয়া কিছু প্লটও করা হয়েছে। জমির উত্তরপ্রান্তে পাশাপাশি তিনটি টিনের ঘরে থাকে তিন পরিবার। তাদের একজন মোশাররফ হোসেনের স্ত্রী নাসিমা আক্তার বলেন, আমরা শহীদ ভাইয়ের এই জমি পাহারা দেই।

জানতে চাইলে বরিশাল সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আজহারুল ইসলাম বলেন, ত্রিশ গোডাউনে কীর্তনখোলার তীরে এক একর ১২ শতাংশ জমি ২০০২ সালে বন্দোবস্ত নেন একেএম শহীদুল্লাহ। শর্ত ছিল জমিতে ফলদ ও বনজ বাগান করা হবে। তবে সে রকম কিছু করা হয়নি। পরে ২০১৮ সালে তিনি ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে ওই জমি দীর্ঘমেয়াদি বন্দোবস্ত নেন। তবে এটি বন্দোবস্ত দেওয়ার মতো জায়গা নয়। তিনি কোন শর্তে জমিটি নিয়েছেন খতিয়ে দেখা হবে। শর্ত ভাঙলে এই বন্দোবস্ত বাতিলের জন্য ভূমি মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হবে।

গত ২৯ আগস্ট ত্রিশ গোডাউন এলাকা পরিদর্শনে যান সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন, জেলা প্রশাসক মামুন খন্দকার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আজহারুল ইসলাম। তখন নদীতীরে বহাল থাকা ৩০ শতাংশ খাসজমিতে মিনি পার্ক করার প্রস্তাব হয়।

জানতে চাইলে গণসংহতি আন্দোলনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান সমন্বয়কারী আব্দুর রশিদ নিলু বলেন, কেউ সরকারি জমি বন্দোবস্ত পেলে তা বিক্রি করতে পারেন না। এ জমি সরকার সরাসরি ভূমিহীনদের দিতে পারে।
এ বিষয়ে একেএম শহীদুল্লাহ বলেন, ফলদ ও বনজ বাগান করার শর্তে এক একর ১২ শতাংশ জমি ২০০২ সালে বন্দোবস্ত নিই। পরে ওই জমি সরকারের কাছ থেকে দেড় গুণ দামে কিনে নিয়েছি। সরকারি জমি কীভাবে কিনলেন এ প্রশ্নে শহীদুল্লাহ বলেন, নিয়ম অনুযায়ী আমি সরকারের কাছ থেকে জমিটি কিনছি।

জেলা প্রশাসক মামুন খন্দকার বলেন, একেএম শহীদুল্লাহ কীভাবে জমির মালিক হলেন তা খতিয়ে দেখা হবে। প্রয়োজনে আমরা আইনি প্রক্রিয়ায় যাব।
সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন বলেন, আমরা নগরকে সুন্দর করতে চাই। পর্যটন করপোরেশনও কাজ করতে চায়। সরকারি জমি কী শর্তে বন্দোবস্ত দেওয়া হয়েছে, সেটা-সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বলতে পারবে।

খবরটি শেয়ার করতে নিচের বোতামগুলিতে ক্লিক করুন।

আরও খবর

বিভাগীয় সংবাদ