সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ১:৩০ পূর্বাহ্ণ
■ ৩রা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্টকে আবারও ভিসা দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Print

নিউজ ডেস্ক,বিডিমিরর সেভেনটিওয়ান ডটকমঃ

টানা দ্বিতীয় বছরের মতো নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসকে ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ফিলিস্তিনের দুটি সূত্রের বরাতে বিবিসি জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘের অধিবেশনে অংশ নেওয়ার জন্য আব্বাসকে ‘এন্ট্রি ভিসা’ দেওয়া হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর বুধবার জানিয়েছে, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ (পিএ) ও প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশন (পিএলও)-এর কর্মকর্তাদের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা বাড়ানো হয়েছে। বিবৃতিতে আব্বাসের নাম সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় তিনিও রয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, পিএ ও পিএলও তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সংস্কার করতে ব্যর্থ হয়েছে। তারা এমন কিছু কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, যা শান্তির সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। ওয়াশিংটন তাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ও আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) পদক্ষেপের মাধ্যমে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নেওয়ার চেষ্টা। একতরফাভাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি আদায়ের অভিযোগও এনেছে। এ ছাড়া ‘সন্ত্রাসবাদকে মহিমান্বিত’ করার অভিযোগও করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

গত বছরের আগস্টেও যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ৮০ জন ফিলিস্তিনি কর্মকর্তার ভিসা বাতিল বা প্রত্যাখ্যান করেছিল। এর ফলে আব্বাস নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে সশরীরে অংশ নিতে পারেননি। পরে ভিডিও বার্তার মাধ্যমে ভাষণ দেন তিনি। এবারও ১৯৩ সদস্যের সাধারণ পরিষদে আব্বাসকে ভিডিওর মাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে বৃহস্পতিবার সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা রয়েছে।

জাতিসংঘের সদর দপ্তর চুক্তি অনুযায়ী, নিউইয়র্কে অবস্থিত জাতিসংঘে বিদেশি কূটনীতিকদের প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে ওয়াশিংটন বলছে, নিরাপত্তা, চরমপন্থা ও পররাষ্ট্রনীতির কারণে ভিসা প্রত্যাখ্যানের ক্ষমতা তাদের রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র অবশ্য জানিয়েছে, জাতিসংঘে পিএলও পর্যবেক্ষক মিশনের জন্য নোটিফাই করা কর্মীদের ক্ষেত্রে বিদ্যমান ছাড় বহাল রয়েছে।

অসলো শান্তি প্রক্রিয়ার আওতায় ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ গঠিত হয়। একই প্রক্রিয়ায় ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়া ও সহিংসতা পরিত্যাগের শর্তে পিএলওকে ফিলিস্তিনি জনগণের আনুষ্ঠানিক প্রতিনিধি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল। ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা বলে আসছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় কয়েক দশকের আলোচনা ইসরায়েলি দখলদারত্বের অবসান ও স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সফল হয়নি।

বর্তমানে জাতিসংঘের ১৯৩ সদস্যের মধ্যে অধিকাংশ দেশ ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়াও গত বছর ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়া দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্যের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি।

এদিকে গাজায় মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘের সতর্কতার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্ত এসেছে। যুদ্ধবিরতি নিয়ে সমঝোতা হলেও গাজায় ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকার অভিযোগ রয়েছে। মঙ্গলবার ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত পাঁচ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও হামাসের সূত্র জানিয়েছে। নিহতদের মধ্যে দুই শিশু ও হামাসের এক কমান্ডার রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা গাজার দক্ষিণাঞ্চলে হামাসের এক কমান্ডার এবং উত্তরাঞ্চলে আরেক যোদ্ধাকে হত্যা করেছে। দুই ঘটনায় একটি করে শিশুও নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে।

এ ছাড়া ব্রিটিশ দাতব্য সংস্থা মেডিকেল এইড ফর প্যালেস্টিনিয়ানস জানিয়েছে, উত্তর গাজার জাবালিয়ায় তাদের সহায়তাপ্রাপ্ত একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় এক রোগী নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর একজন মুখপাত্র বিবিসিকে বলেছেন, এ ধরনের কোনো ঘটনার বিষয়ে তারা অবগত নন।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরায়েলে হামলা করে হামাস। ওই হামলায় প্রায় ১ হাজার ২০০ মানুষ নিহত এবং ২৫১ জন জিম্মি হন। এর ‘জবাব’ দিতে ফিলিস্তিনের গাজা অঞ্চলে গণহত্যা শুরু করে ইসরায়েল। এ পর্যন্ত গাজায় ৭৩ হাজার ৭৯০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। জাতিসংঘ এই মন্ত্রণালয়ের হতাহতের পরিসংখ্যানকে সাধারণভাবে নির্ভরযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করে।

খবরটি শেয়ার করতে নিচের বোতামগুলিতে ক্লিক করুন।

আরও খবর

বিভাগীয় সংবাদ