জুন ১৪, ২০২৬ ৭:০৪ অপরাহ্ণ
■ ৩১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কর্মী ছাঁটাইয়ের পেছনে এআই

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Print

এক সময় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইকে দেখা হতো মানুষের সহকারী হিসেবে। কাজ সহজ করবেসময় বাঁচাবে এই ছিল প্রত্যাশা। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বের বিভিন্ন বড় প্রযুক্তি  কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানে ৫০ হাজারেরওবেশি কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘটনায় বারবার উঠে আসছে একটি নাম,এআই।

প্রশ্ন উঠছেএআইকীকেবল দক্ষতার প্রতীকনাকি কর্মসংস্থানের জন্য হুমকি?

পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ‘চ্যালেঞ্জার’  ‘গ্রে অ্যান্ড ক্রিসমাস’-এর তথ্য অনুসারে বছর যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৫৫ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের পেছনে দায়ী ছিল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই।২০২৫ সালজুড়ে মোট ১১ লাখ ৭০ হাজার কর্মী ছাঁটাই হয়েছেযা ২০২০ সালের কোভিড১৯ মহামারীর পর কর্মী ছাঁটাইয়ের সর্বোচ্চ সংখ্যা। ওই বছরের শেষ নাগাদ প্রায় ২২ লাখ কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিয়েছিল বিভিন্ন কোম্পানি।

কেন এআইয়ের কারণে কর্মী ছাঁটাই?

আধুনিক এআই সিস্টেম এখন এমন সব কাজ করতে পারছে, যেগুলো আগে মানুষের ওপর নির্ভরশীল ছিল। ডেটা বিশ্লেষণ, কাস্টমার সাপোর্ট, কনটেন্ট তৈরি, কোডিং, হিসাবরক্ষণ এমনকি নিয়োগ প্রক্রিয়ার একটি অংশও এখন স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন হচ্ছে।একজন কর্মীর জায়গায় যখন একটি সফটওয়্যার ২৪ ঘণ্টা কাজ করতে পারেছুটি চায় নাভুল কম করেতখন প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাভাবিকভাবেই খরচ কমানোর পথ বেছে নিচ্ছে।

খরচ কমানোই কি মূল কারণ?

বিশ্লেষকদের মতে, শুধু খরচ কমানো নয় ,দক্ষতা ও গতির প্রতিযোগিতাই মূল চালিকাশক্তি। প্রযুক্তিনির্ভর বাজারে টিকে থাকতে প্রতিষ্ঠানগুলো দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে চায়। এআই সেখানে বড় অস্ত্র।

ফলে যেসব পদে কাজ ছিল নিয়মভিত্তিক ও পুনরাবৃত্তিমূলক, সেসব জায়গায় মানুষের প্রয়োজন কমে আসছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে চাকরির বাজারে।

সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে কারা?

এআই নির্ভর ছাঁটাইয়ের ধাক্কা সবচেয়ে বেশি লাগছে এন্ট্রি-লেভেল অফিস কর্মী ,কল সেন্টার ও কাস্টমার কেয়ার কর্মী,ডেটা এন্ট্রি ও রুটিন অ্যাডমিন কাজ করা পেশাজীবীদের ওপর।এরা এমন কাজের সঙ্গে যুক্তযেখানে সিদ্ধান্ত নেওয়ার গভীর মানবিক বিবেচনার চেয়ে গতি  নির্ভুলতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ ,আর সেখানেই এআই এগিয়ে।

মানবিক দিকটি কোথায়?

হঠাৎ চাকরি হারানো মানে শুধু আয় বন্ধ হওয়া নয় ;এটি আত্মসম্মান, মানসিক স্থিতি ও সামাজিক নিরাপত্তার ওপর বড় আঘাত।অনেক কর্মীই বলছেন, “এআই আমাদের কাজ শিখেছেআর সেই শেখার ফলেই আমরা অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়েছি।” এই বাস্তবতা প্রযুক্তির নৈতিক দিক নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।

ভবিষ্যৎ কোন পথে?

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ভবিষ্যৎ হবে মানুষ ও এআইয়ের সহাবস্থানের। কিন্তু তার জন্য প্রয়োজন দক্ষতা পুনর্গঠন ,প্রযুক্তি বান্ধব শিক্ষা ব্যবস্থা,কর্মী ছাঁটাইয়ের ক্ষেত্রে মানবিক নীতিমালা ।

এআইকে থামানো যাবে না, কিন্তু মানুষকে বাদ দিয়েও টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।এআই যদি ভবিষ্যৎ হয়তবে সেই ভবিষ্যতে মানুষকে জায়গা করে দেওয়াই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

খবরটি শেয়ার করতে নিচের বোতামগুলিতে ক্লিক করুন।

আরও খবর

বিভাগীয় সংবাদ