স্পোর্টস ডেস্ক , বিডিমিরর সেভেনটিওয়ান ডটকম:
ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়াম সেমিফাইনালের জন্য প্রস্তুত। বাংলাদেশ সময় আজ সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় সেখানে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লড়বে স্বাগতিক ভারত। দুই দল তাদের সেরা দুই পেসারকে কীভাবে ব্যবহার করে, তা গড়ে দিতে পারে ম্যাচের ভাগ্য। একদিকে আছেন জফরা আর্চার, অন্যদিকে যশপ্রীত বুমরা।
টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে এ পর্যন্ত ৭ ইনিংসে ১০ উইকেট নিয়েছেন আর্চার। পাওয়ারপ্লেতে ম্যাচপ্রতি গড়ে তাঁকে দিয়ে প্রায় তিন ওভার করে বোলিং করিয়েছে ইংল্যান্ড। এই ৭ ম্যাচের মধ্যে পাঁচ ম্যাচেই পাওয়ারপ্লেতে উইকেট নিয়েছেন আর্চার। এবার টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রতিপক্ষের ইনিংসে প্রথম ৬ ওভারের মধ্যে আর্চারই সবচেয়ে বেশি উইকেট নিয়েছেন।
বুমরার ভূমিকা একটু আলাদা। ভারত যখনই বিপদ বুঝেছে, তখনই তাঁকে আক্রমণে এনে উইকেট নেওয়ার চেষ্টা করেছে। পাওয়ারপ্লেতে গড়ে এক ওভারের সামান্য বেশি বোলিং করেছেন বুমরা। তবে এবার টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজের প্রথম ম্যাচে পাওয়ারপ্লেতে একটি ওভারও বোলিং করেননি বুমরা।

ভারতের এই ফাস্ট বোলারের ভূমিকা মূলত দুরকম—আক্রমণ ও রক্ষণ। বিপদের সময় উইকেট এনে দেওয়ার পাশাপাশি রানের চাকা আটকানো। ব্লক হোলে বল ফেলতে পারেন ধারাবাহিকভাবে। শট খেলতে জায়গা দেন না। এবার বিশ্বকাপে ১২ ওভারের বেশি বল করা বোলারদের মধ্যে কেবল ম্যাথু ফোর্ডের ইকোনমি রেটই বুমরার (৬.৩০) চেয়ে ভালো।
গ্রুপ পর্বে পাকিস্তান ও সুপার এইটে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বুমরাকে দিয়ে বোলিং ওপেন করায় ভারত। কারণ দুই দলের টপ অর্ডারের শক্তি। পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ওভারেই বুমরা ফিরিয়েছেন সাইম আইয়ুব ও সালমান আগাকে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে নিজের প্রথম দুই ওভারে ফেরান রায়ান রিকেলটন ও কুইন্টন ডি কককে।
কিন্তু সুপার এইটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ভারতের বাঁচামরার ম্যাচে আবার বুমরার ভূমিকা ছিল ভিন্ন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের মিডল অর্ডার ব্যাটিং ভারতের জন্য ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। বুমরাকে তাই ক্যারিবিয়ানদের ইনিংসে প্রথম ১১ ওভারে বোলিং করতে দেখা গেছে মাত্র এক ওভার। পরে আক্রমণে ফিরে তিন বলের মধ্যে আউট করেন রোস্টন চেজ ও শিমরন হেটমায়ারকে।
এ ম্যাচে বুমরাকে যেভাবে ব্যবহার করা হয়—সে বিষয়ে ম্যাচ শেষে ভারতের কোচ গৌতম গম্ভীরের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল। গম্ভীর বলেছিলেন, ‘এটা অনেকটাই নির্ভর করে প্রতিপক্ষের ওপর—তাদের মূল শক্তি কোথায়। আমরা জানতাম, ওয়েস্ট ইন্ডিজের মিডল অর্ডার অনেক শক্তিশালী—হেটমায়ার, রোভম্যান ও রাদারফোর্ড আছেন। আমরা জানতাম বুমরার মতো কাউকে দরকার। প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ওভারে আমরা তার কাছে ফিরতে পারি। বুমরা আমাদের নির্ভরতার জায়গা। আমরা ভবিষ্যতেও তাকে ভিন্নভাবে ব্যবহার করতে থাকব।’

প্রশ্ন হলো, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বুমরা কখন বোলিং করবেন?
ইংল্যান্ডের দুই ওপেনার ফিল সল্ট ও জস বাটলার ভীষণ আক্রমণাত্মক হলেও ছন্দে নেই। বাঁহাতি বোলারদের বিপক্ষে বাটলারের দুর্বলতাও চোখে পড়ছে। ভারত তাই পাওয়ার প্লেতে বাঁহাতি পেসার অর্শদীপ সিংকে বেশি ব্যবহার করতে পারে। বুমরাকে দিয়ে হয়তো সর্বোচ্চ এক ওভার বোলিং করানো হতে পারে পাওয়ারপ্লেতে।
ইংল্যান্ডের ইনিংসে শুরুর দিকে বুমরা কত ওভার বোলিং করবেন, সেটা আসলে নির্ভর করছে অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক ক্রিজে কখন আসেন তার ওপর। ব্রুকই এ মুহূর্তে ইংল্যান্ডের সবচেয়ে বিপজ্জনক ব্যাটসম্যান।
আর্চার পাওয়ারপ্লেতে স্রেফ অসাধারণ। এ সময় উইকেট নিয়েছেন ৮টি, ডট ৬৬টি। বিশ্বকাপে পাওয়ার প্লেতে আর্চারের চেয়ে বেশি উইকেট এবং ডট কেউ আদায় করতে পারেননি।







